লাইফস্টাইল

সংকটে তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য: প্রযুক্তি ও তুলনার মাঝে ধুঁকছে যুবসমাজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০১ পিএম

সংকটে তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য: প্রযুক্তি ও তুলনার মাঝে ধুঁকছে যুবসমাজ
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান যুগের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিগত দ্রুত বিকাশ, সামাজিক পরিবর্তন এবং তীব্র অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেলেও তাদের মানসিক স্বাস্থ্য গুরুতর সংকটের সম্মুখীন।

সাম্প্রতিক আলোচনায় উঠে এসেছে, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং সমাজের অপ্রয়োজনীয় প্রত্যাশার চাপ তরুণদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে হতাশার জন্ম দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং তুলনামূলক আচরণ। অধিকাংশ ব্যবহারকারীই প্ল্যাটফর্মগুলোতে অন্যদের জীবনের শুধুমাত্র সুন্দর মুহূর্তগুলো দেখতে পায়। এর ফলে তারা নিজেদের জীবনকে অন্যদের তুলনায় কম সফল বা অপ্রতুল বলে মনে করতে শুরু করে।

যখন কেউ অতিরিক্ত সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটায় এবং বারবার অন্যের পোস্টের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা করে, তখন তাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায় এবং হতাশা বাড়তে থাকে— গবেষণায় বলা হয়েছে।

এই তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। তারা মনে করছে যে তারা পিছিয়ে পড়ছে, তাদের প্রাপ্তি খুবই সামান্য এবং তাদের জীবন অন্যদের মতো আকর্ষণীয় নয়।

সামাজিক মাধ্যমের চাপ ছাড়াও, শিক্ষা এবং পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সমাজের পক্ষ থেকে আসা উচ্চ প্রত্যাশাও তরুণদের ওপর অপূরণীয় মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। এই চাপ কখনো কখনো তাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে অসুবিধা সৃষ্টি করে এবং উদ্বেগে ভোগায়।

পারিবারিক অপ্রয়োজনীয় চাহিদা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য মেপে দেখার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে, যা ক্ষেত্রবিশেষে তরুণদের আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপ নিতেও বাধ্য করছে।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে তরুণরা সমাজের সহানুভূতির অভাব অনুভব করে। তারা প্রায়শই তাদের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে ভয় পায়, কারণ সমাজে এখনো মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরাসরি কথা বলাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। এই 'ট্যাবু'র কারণে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন:

সচেতন ব্যবহার: তরুণদের সচেতনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি।

ইতিবাচক মনোযোগ: জীবনের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং তুলনামূলক আচরণ পরিহার করা।

সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারকে একযোগে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

সহায়ক পরিবেশ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যাগুলো খোলাখুলি আলোচনা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর জোর দেওয়া এবং একটি নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা সময়ের দাবি। কারণ, তরুণ প্রজন্মের সুস্থতাই আমাদের ভবিষ্যতের সুস্থতার প্রতিফলন।