সাহিত্য

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২৩ এএম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ছবি: সংগৃহীত

আজ ২২ শ্রাবণ, বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪তম প্রয়াণবার্ষিকী। শ্রাবণের এক অবিরাম বর্ষণমুখর দিনে, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৫ বছর।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী—কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতকার, নাট্যকার, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী, এমনকি অভিনেতা ও দার্শনিক হিসেবেও তার অবদান অনস্বীকার্য। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে তাকে সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাভরে তাকে ‘বিশ্বকবি’, ‘কবিগুরু’ ও ‘গুরুদেব’ অভিধায় স্মরণ করে।

১৮৬১ সালের ২৫ মে (২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ। পিতা ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের প্রভাবশালী নেতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদাসুন্দরী দেবী। চতুর্দশ সন্তান হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শৈশব থেকেই ছিল গভীর সাহিত্যপ্রেম ও সৃষ্টিশীলতার ঝোঁক।

শিক্ষাজীবনের শুরু কলকাতার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে হলেও, তিনি প্রথাগত শিক্ষায় ততটা আগ্রহী ছিলেন না। পরবর্তীতে ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড যান এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন, যা তিনি শেষ করেননি। বরং ইংরেজ সাহিত্য, বিশেষ করে শেকসপিয়র ও কিটসের রচনার প্রতি আকৃষ্ট হন।

তার সাহিত্যকর্মের পরিসর বিস্ময়কর—৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ১৩টি উপন্যাস, ৩৮টি নাটক, ৯৫টি ছোটগল্প, ১৯১৫টি গান, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং প্রায় ২০০০টি চিত্রকর্ম রচনা করেছেন তিনি। তার রচিত ‘জন গণ মন’ ও ‘আমার সোনার বাংলা’ যথাক্রমে ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

১৯১৩ সালে তার “গীতাঞ্জলি” কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, যা তাকে বিশ্বের সাহিত্যপরিমণ্ডলে প্রথম এশীয় হিসেবে স্বীকৃতি এনে দেয়। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করলেও, ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

বিশ্বকবির প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বাংলা একাডেমির আয়োজনে বিকেল ৪টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনারকক্ষে হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।