জাতীয়
সন্দেহজনক ১৫৮ কোটি টাকার লেনদেন, নূরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ গতকাল মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের জনসংযোগ শাখার উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে তার নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকে ১৯টি হিসাবের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, এসব অ্যাকাউন্টে ৮৫ কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩ টাকা জমা এবং ৭৩ কোটি ৫ লাখ ৮১ হাজার ৩০৫ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ টাকার লেনদেন সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক।
এই ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’-এর ২৭(১) ধারা, ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭’-এর ৫(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আসাদুজ্জামান নূর ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো নীলফামারী-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী চারটি জাতীয় নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে জয়ী হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
অভিনয় ও আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করা আসাদুজ্জামান নূর ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯৯০-এর দশকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলটির মন্ত্রী-সাংসদদের একের পর এক গ্রেপ্তারের মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের নওরতন কলোনির নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।