জাতীয়

ফ্ল্যাট পাচ্ছে জুলাইয়ে আহত ১ হাজার ৫৬০ জনের পরিবার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম

ফ্ল্যাট পাচ্ছে জুলাইয়ে আহত ১ হাজার ৫৬০ জনের পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার আন্দোলনে গুরুতর আহত ১ হাজার ৫৬০ জনের পরিবারকে ফ্ল্যাট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর মিরপুর ৯ নম্বর সেকশনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জমিতে এই আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা।

সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা শেষে এটি একনেক সভায় উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে। তবে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ব্যয় ও নীতিমালা সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নে প্রকল্প অনুমোদনে সময় লাগতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে আহতদের তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-‘এ’ অতি গুরুতর আহত, ক্যাটাগরি-‘বি’ গুরুতর আহত এবং ক্যাটাগরি-‘সি’ সাধারণ আহত। গৃহায়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুরুতর আহত ও কর্মক্ষমতা হারানো ১ হাজার ৫৬০ জনকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮৩৩ কাঠা জমিতে ১৫টি বহুতল ভবন নির্মাণ হবে। প্রতিটি হবে ১৪ তলা, সঙ্গে বেসমেন্ট। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ১ হাজার ৩২০ বর্গফুট। প্রকল্প প্রস্তাবে একেকটি ফ্ল্যাটের গড় মূল্য ধরা হয়েছে ৮৬ লাখ টাকার বেশি। জমির মূল্য যোগ করলে হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বর্গফুটে ৮ হাজার ৩৫০ টাকা খরচ বর্তমান বাজার দরের চেয়ে অনেক বেশি।

ভবনগুলোতে থাকবে লিফট, জেনারেটর, সৌরশক্তি ব্যবস্থা, ফায়ার হাইড্রেন্ট ও গাড়ি পার্কিং। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, খেলার মাঠ, সবুজ এলাকা ও অভ্যন্তরীণ রাস্তার মতো কমিউনিটি সুবিধাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প এলাকা মিরপুর ডিওএইচএসের কাছাকাছি, মেট্রো রেল স্টেশন ও বিমানবন্দর থেকেও তুলনামূলক কাছে। কালশী ফ্লাইওভার ও প্রশস্ত সড়কের কারণে রাজধানীর অন্যান্য অংশের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে।

গত ২৭ জুলাই একনেক সভায় শহীদ পরিবারের জন্য প্রস্তাবিত আরেকটি আবাসন প্রকল্প ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সেসময় প্রধান উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টারা পরামর্শ দেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমন্বিত নীতিমালা করে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য আলাদা আলাদা প্রকল্প না নিয়ে একটি যৌথ কাঠামো তৈরি করা উচিত।

গৃহায়ন মন্ত্রণালয় সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এখন একনেক চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র: আমারদেশ