জাতীয়

শেখ হাসিনার অর্থ জোগানদাতা দিলীপ আগরওয়ালা গোপনে কারামুক্ত


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:০০ পিএম

শেখ হাসিনার অর্থ জোগানদাতা দিলীপ আগরওয়ালা গোপনে কারামুক্ত
দিলীপ আগরওয়ালা এবং শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিতর্কিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার গোপন কারামুক্তি ঘিরে আলোচনার ঝড় উঠেছে বিচার ও প্রশাসনিক অঙ্গনে। জামিনের পর ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসাবে পরিচিত দিলীপের হঠাৎ মুক্তি এবং পরবর্তীতে কোনো খোঁজ না মেলায় বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য।

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসাবে পরিচিত দিলীপের এমন আকস্মিক কারামুক্তি নিয়ে আদালত অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। 

গুলশান থানার একটি হত্যা মামলায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিলীপ আগরওয়ালা জামিন পান। মাত্র তিন দিনের মাথায়, ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে কারাগার থেকে বেরোনোর সময় ছিল বেশ গোপনীয়তায় মোড়া। কারা কর্তৃপক্ষ বা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মুক্তির সময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

ঢাকার এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই ধরনের উচ্চপ্রোফাইল আসামিকে একাধিক মামলার পরেও দ্রুত জামিন দিয়ে কারামুক্তি ঘটানো রাষ্ট্রপক্ষের কোনো না কোনো স্তরের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে বলেন, “যেকোনো আসামিকে জামিন দেওয়া আদালতের এখতিয়ার। দিলীপ আগরওয়ালা কয়েকটি মামলায় জামিনে ছিলেন। তবে তার কারামুক্তির বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”

অন্যদিকে দিলীপের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আদালতের আদেশে জামিন হয়েছে। যথারীতি বেইলবন্ড জমা দেওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। এতে কোনো অনিয়ম নেই। তার পাসপোর্ট জব্দ রয়েছে, সুতরাং তিনি বিদেশে যেতে পারেন না। এখনো তিনি দেশেই আছেন।”

কারা সূত্র জানায়, কারাগার থেকে মুক্তির পর থেকেই দিলীপ আগরওয়ালার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি গোপনে দেশ ছেড়েছেন। যদিও তার বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে আগেই পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছিল।

গত ৮ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিলীপ আগরওয়ালা ও তার স্ত্রী সবিতা আগরওয়ালার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে। দিলীপের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড-এর বিরুদ্ধে রয়েছে স্বর্ণ চোরাচালান, বৈদেশিক মুদ্রা পাচারসহ একাধিক তদন্ত।

দিলীপ আগরওয়ালা এক সময় ছিলেন আওয়ামী লীগের বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দিলীপ আগরওয়ালা প্রায় বছরখানেক বন্দি থাকলেও অধিকাংশ সময় তিনি ছিলেন হাসপাতালের বিশেষ কেবিনে। সেখানে পরিবারের নিয়মিত সাক্ষাৎ, ফোন ব্যবহারের সুযোগসহ নানা ‘সুবিধা’ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সেখান থেকেই তিনি মামলার বাদীকে হুমকি দিয়েছেন বলে একটি অভিযোগ পুলিশের কাছে রয়েছে।