জাতীয়

মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৫ এএম

মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ মীর নাসির আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী। মীর নাসির আলী, যিনি বিপ্লবী ও বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত, বিশেষত শহীদ তিতুমীর নামে ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তিনি ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বারাসত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ মীর হাসান আলী এবং মাতৃবৃন্দ আবিদা রোকেয়া খাতুন।

প্রাথমিক শিক্ষার পর স্থানীয় মাদরাসায় কোরআন ও হাদিসের ওপর দীক্ষা গ্রহণ করেন তিতুমীর। অল্পবয়সেই পাণ্ডিত্য অর্জন করে, পরবর্তীতে পবিত্র হজ পালনের সময় তিনি মক্কায় সৈয়দ আহমদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ১৮২৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশে ফিরে সমাজ সংস্কারে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

তিতুমীরের জীবন শুরু হয় একজন ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারক হিসেবে। তখন মুসলিম সমাজে বিদ্যমান অবৈধ প্রথা ও শিরক দূরীকরণই তার মূল উদ্দেশ্য ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার আন্দোলন অর্থনৈতিক ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের রূপ নেয়।

তিনি হিন্দু ও মুসলিম কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার আহ্বান জানান। ২৪ পরগণা ও নদীয়ার বহু কৃষক তার ডাকে সাড়া দিয়ে তার আন্দোলনে যোগ দেন। অল্প দিনের মধ্যেই তিতুমীরের নেতৃত্বে কৃষক বিদ্রোহ একটি গণ আন্দোলনে পরিণত হয়।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাংলায় রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। তার শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধের সূচনা ঘটে বাংলার কৃষক সমাজের মধ্যে। তিতুমীর প্রজাদের অধিকার রক্ষার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থতার পর ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে বারাসাতে কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।

তিনি ২৪ পরগণার কিছু অংশ, নদীয়া ও ফরিদপুরের একাংশকে স্বাধীন ঘোষণা করেন। ‘বারাসাতের বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনে প্রায় ৮৩ হাজার কৃষক তিতুমীরের পক্ষে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়ায় তিনি ও তার অনুসারীরা বাঁশ ও কাদা ব্যবহার করে একটি কেল্লা নির্মাণ করেন, যা ছিল তাদের প্রতিরোধের প্রতীক।

কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সেনারা বিশাল বাহিনী নিয়ে তিতুমীরের কেল্লার উপর আক্রমণ চালায়। তিতুমীর তার অনুসারীদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, “মৃত্যুর ভয় পেলে চলবে না। আমাদের লড়াই শেষ নয়; আমাদের চেষ্টা একদিন দেশকে স্বাধীন করবে।” ব্রিটিশদের কামানের গোলাবর্ষণে কেল্লা ধ্বংস হয়, আর তিতুমীর সহ চল্লিশজন সঙ্গী সেই কেল্লায় প্রাণ হারান।

শহীদ তিতুমীরের জীবন, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য আজও প্রেরণার উৎস। তার সাহস ও নেতৃত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জাতির জন্য লড়াই কখনো বৃথা যায় না।