জাতীয়
স্থগিত খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা, ঢাকাতেই চলবে চিকিৎসা
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় আজ নির্ধারিত লন্ডনযাত্রা দ্বিতীয় দফায় স্থগিত করা হয়েছে। তার মেডিকেল বোর্ড মনে করছে, বর্তমানে ১২–১৪ ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানযাত্রা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে আপাতত ঢাকাতেই উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। এক জটিলতা নিয়ন্ত্রণে এলেই আরেকটি দেখা দিচ্ছে। লিভারের পুরোনো জটিলতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিডনির অবস্থা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা। কিডনির ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ সীমার ওপরে রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করতেই বেশি সমস্যা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে, আর তা বন্ধ হলেই দ্রুত অবস্থার অবনতি হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক বলেন, “ম্যাডামের অবস্থার কিছুটা উন্নতি আছে, তবে তা খুব ধীরগতির। বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। প্রতিদিনই অ্যাডভান্সড চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, কিন্তু তাকে এখনই দীর্ঘ ফ্লাইটে নেওয়া নিরাপদ নয়।”
খালেদা জিয়া সিসিইউতে নেয়া হওয়ার পর প্রতিদিন নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। যদিও কিছু প্যারামিটার স্বাভাবিক আছে, তবুও তাকে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা প্রতিদিন রাতে বসে প্রতিটি জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন-কখনো ওষুধ বন্ধ করা, কখনো পুনরায় চালু করা কিংবা মাত্রা পরিবর্তন করা হচ্ছে।
তার পুত্রবধূ ও চিকিৎসক ডা. জোবাইদা রহমান দেশে ফেরার পর থেকেই মেডিকেল বোর্ডের আলোচনায় সশরীরে উপস্থিত থাকছেন। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালেই শাশুড়ির শয্যাপাশে কাটাচ্ছেন এবং চিকিৎসা সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবে-এমন অনুমতি দিয়েছিল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ৯টার দিকে লন্ডনের উদ্দেশে উড্ডয়ন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অপারেটর প্রতিষ্ঠান এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ আজকের নির্ধারিত স্লট বাতিলের আবেদন করে। এরপর বেবিচক সেই অনুমোদন প্রত্যাহার করে আবেদনটি বিদেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
এর আগে রোববারও একই কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের শিডিউল পিছিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যস্থিতি না আসা পর্যন্ত বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণই থাকবে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার পাশে রয়েছেন পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান, সৈয়দা শর্মিলা রহমান, গৃহপরিচারিকা ফাতেমা ও স্টাফ রূপা আক্তার। বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমাও নিয়মিত রয়েছেন হাসপাতালে।
চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রতিদিন গুলশানের বাসা থেকে বিশেষ খাবার পাঠানো হচ্ছে। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি–বিদেশি একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
এদিকে, খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় বাস্তুহারা দল দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, তার বিদেশযাত্রা পুরোপুরি নির্ভর করছে স্বাস্থ্যজটিলতার উন্নতির ওপর, এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মেডিকেল বোর্ড।