জাতীয়

সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও গোপন তথ্য প্রচারে জেল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও গোপন তথ্য প্রচারে জেল
ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুসংগঠিত ও তদারকির লক্ষ্যে সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৬’–এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে।

খসড়ায় সম্প্রচার সংক্রান্ত নানা অনিয়মের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে এ খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত আহ্বান করা হয়েছে, যা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়া যাবে।

খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, টেরিস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট ও ক্যাবল টেলিভিশন ও রেডিও, আইপি টিভি ও রেডিও, ডিটিএইচ, এফএম ও কমিউনিটি রেডিও, ওটিটি, স্ট্রিমিং ও ভিডিও অন ডিমান্ড—সবই সম্প্রচার মাধ্যমের আওতায় আসবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টাল, অ্যাপস ও ভিডিও স্ট্রিমিং কার্যক্রমও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট কিংবা অপেশাদার কনটেন্ট এ অধ্যাদেশের বাইরে থাকবে।

লাইসেন্স ও কমিশনের অনুমতি ছাড়া সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য, গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচার, অনুমোদনহীন ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিজ্ঞাপনে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার চালালে বা লাইসেন্স নেওয়ার আগে কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ না করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

জাতীয় ইস্যু ও জনস্বার্থে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি অনাপত্তি ছাড়াই সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানি করে কার্যক্রম চালালে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাজি ও জুয়া, তামাকজাত ও মদজাতীয় পণ্য কিংবা বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয়, আদালত, সেনানিবাস কিংবা কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানের দৃশ্য পণ্যের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। এসব অপরাধে আরোপিত অর্থদণ্ড পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট-১৯১৩ অনুযায়ী আদায় করা হবে।

অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে সরকার সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। একজন বিচারকের সমন্বয়ে এ ট্রাইব্যুনাল পরিচালিত হবে এবং জেলা ও দায়রা জজদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে। মামলার সংখ্যা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো যাবে এবং অভিযোগ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়ায় প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের মূল দায়িত্ব হবে সরকারি ও বেসরকারি সম্প্রচার কার্যক্রম সুসংগঠিত করা, বিষয়বস্তুর মানদণ্ড ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং সেগুলোর যথাযথ প্রতিপালন তদারকি করা। কমিশন সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করবে, সম্প্রচারকারীদের জন্য আচরণবিধি ও এসওপি তৈরি করবে এবং তা মানা হচ্ছে কি না নজরদারি করবে। কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে।