জাতীয়
ডেঙ্গু মোকাবিলায় ফুল হাতা শার্ট, লুঙ্গি ও পায়জামা পরার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশব্যাপী মানুষকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পাশাপাশি ফুল হাতা শার্ট, পায়জামা ও লুঙ্গি লম্বা করে পরার পরামর্শ দিয়ে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম ও লার্ভা ধ্বংসে ট্যাবলেট প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে মশারি ব্যবহার ও লম্বা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট ও রিএজেন্ট মজুত রয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় গুদামেও মজুত রাখা হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত স্যালাইন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। অন্যদিকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত আক্রান্ত ছিলেন ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।
তিনি বলেন, গতবারের তুলনায় এবার আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও সরকার আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০ কিট মজুত রয়েছে এবং শিগগিরই আরও ৫ লাখ কিট যোগ হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ১ লাখ স্যালাইন ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর কথাও জানান মন্ত্রী।
এছাড়া জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ৫টি জেলায় তা চালু হবে।
মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।