জাতীয়
ফাঁকা সড়কে দুই বাসই চলছিল দ্রুতগতিতে, চালকদের চোখেও ছিল ঘুম: পুলিশ
সিলেটের ওসমানীনগরে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় চালকদের গাফিলতিকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করেছে হাইওয়ে পুলিশ। তাদের দাবি, সকালে ফাঁকা সড়কে দ্রুতগতিতে চলছিল বাস দুটি এবং দুই চালকই ঘুমঘুম চোখে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। দুর্ঘটনার পর দুই বাসের চালকই পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর এলাকার হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০), ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ও বর্তমানে সিলেটের চণ্ডিপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী মেয়ে জায়ফা, সিলেট নগরের সুবহানীঘাট এলাকার সপ্তম রায় প্রিতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবর এলাকার বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪)।
দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউনিক পরিবহনের বাসের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ক্যামেরায় ভিডিওটি ধারণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ঢাকামুখী বাসটি সড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি একটি পিকআপ অতিক্রম করতে গিয়ে সড়কের ডান পাশে চলে আসে। এ সময় বিপরীতমুখী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় এবং দুটি বাসই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা অপু মিয়া জানান, খাদে পড়ে যাওয়া বাসটিতে হতাহতের সংখ্যা বেশি।
সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ফাঁকা সড়কে দ্রুতগতিতে চলা এবং একে অপরকে অতিক্রমের প্রতিযোগিতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভিডিও বিশ্লেষণ করে চালকদের ঘুমঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে জানান তিনি।
নিহতদের মধ্যে সাতজনের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে এবং দুজনের মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। বাকি নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।