রাজনীতি

প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী খুন: যুবদলের পিন্টু ও লাকিকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৬ পিএম

প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী খুন: যুবদলের পিন্টু ও লাকিকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার
হত্যার সময়কার ফটো, ক্যারিকেচার ও যুবদলের লোগো | ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী যুবদলের দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন—কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকি।

গত ৯ জুলাই (বুধবার) বিকেল ৬টার দিকে হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রাস্তায় সোহাগ ওরফে লাল চাঁদ (৩৯) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত সোহাগের বড় বোন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাতে যুবদলের দুই নেতার নাম এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে উঠে আসে।

ঘটনার পর শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী ও শৃঙ্খলাভঙ্গমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায়” রজ্জব আলী পিন্টু ও সাবাহ করিম লাকিকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, তাদের কোনো অপকর্মের দায়ভার যুবদল নেবে না। একইসঙ্গে, দেশের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১), তারেক রহমান রবিন (২২) ও আরও দুইজন রয়েছেন। ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারদের একজনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পেছনে রয়েছে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও পুরনো শত্রুতা। এ ঘটনায় আরও যেসব ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।