রাজনীতি
‘১৫ বছরের আওয়ামী ‘ফ্যাসিস্ট’ দুঃশাসনে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশে আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসনের কারণে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “এই ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থায় দেশের প্রায় সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব পুনর্গঠনের জন্য বিএনপিকে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেই টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণ এখন তার দিকেই তাকিয়ে আছে।”
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে এই জেলায় আমাদের ১২ জন সহকর্মী শহীদ হয়েছেন। শুধু জুলাই মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আওয়ামী লীগ এখানকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৫টি মামলা দিয়েছে, যাতে সাড়ে সাত হাজারের বেশি মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন।”
দলের এই সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই সম্মেলন আমাদের জন্য আনন্দের, কারণ আমরা মুক্ত পরিবেশে দলীয় কার্যক্রম করতে পারছি। কিন্তু একইসঙ্গে এটি কষ্টেরও, কারণ আমরা বহু সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি।”
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি এমন একটি দল তৈরি করেছিলেন, যা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে।”
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে তিনি বলেন, “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নয় বছর, এবং গত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যিনি মাথা নত না করে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন, তিনি খালেদা জিয়া।”
তারেক রহমানকে ভবিষ্যতের নেতা আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, “দেশের মানুষ আজ তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। তাঁর নেতৃত্বেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে।”
তিনি বলেন, “বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দিয়েছে। এখন ভিশন ২০৩০ এবং ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছি—যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করা হবে।”
সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন।
সাত বছর আট মাস পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভা থেকে আগত ৮০৮ জন কাউন্সিলর ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন। সকাল থেকেই পুরো শহরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।