রাজনীতি

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন আরিফুল হক চৌধুরী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৮ এএম

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন আরিফুল হক চৌধুরী
আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “সিলেট-৪ আসনে আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি আজ রাতেই নেওয়া হয়েছে।”

আরিফুল হক আরও বলেন, “দলের চেয়ারপারসনের নির্দেশ আমি কখনও অমান্য করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। তিনি আমাদের জাতীয় নেতা, তার নির্দেশই আমার আদেশ। সিলেট-৪ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দায়িত্ব আমি মাথা পেতে গ্রহণ করেছি। সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় হবে।”

এর আগে তিনি সিলেট-১ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে গত সোমবার (৩ নভেম্বর) ওই আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের অপর উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর আরিফুলকে বিএনপির হাইকম্যান্ডে তলব করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটের কুমারপাড়ার বিশিষ্ট চৌধুরী পরিবারে জন্ম নেন আরিফুল হক চৌধুরী। তার পিতা মুহাম্মদ শফিকুল হক চৌধুরী এবং মাতা আমিনা বেগম। ছোটবেলা থেকেই সিলেট শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশেই তার নেতৃত্বগুণ বিকশিত হয়।

রাজনীতিতে তিনি শুরু করেন স্থানীয় পর্যায় থেকে। সিলেট সিটি করপোরেশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ধীরে ধীরে তিনি নগর রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। পরে উন্নয়ন কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় তিনি যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। একই বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়, পরে দুর্নীতি দমন কমিশন অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগেও মামলা দায়ের করে। ২০০৮ সালে আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন, তবে ২০১৩ সালে তিনি অভিযোগ থেকে খালাস পান।

২০১৩ সালের জুনে আরিফুল হক প্রথমবারের মতো সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। মেয়র হিসেবে শহরের অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেন, যার মধ্যে সাইফুর রহমান শিশু পার্কের সংস্কার অন্যতম।

তবে ২০১৪ সালে শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত হওয়ায় তিনি গ্রেফতার হন এবং ২০১৫ সালে মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি পুনরায় দায়িত্ব ফিরে পান।

২০১৮ সালের নির্বাচনে আবারও মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক, যেখানে তিনি কামরানকে ৬,১৯৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।