রাজনীতি

সব গণতন্ত্রকামী মানুষের এক হওয়ার সময় এসেছে: মির্জা ফখরুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:০৬ পিএম

সব গণতন্ত্রকামী মানুষের এক হওয়ার সময় এসেছে: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমানে তিনি এমন এক বাংলাদেশ দেখছেন, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি কখনো দেখেননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা তাকে গভীরভাবে হতাশ করছে।

সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক যৌথ প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদের উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি জানি না এই মুহূর্তে কোন বাংলাদেশে আছি। আমার বয়স ৭৭ বছর। সারা জীবন সংগ্রাম করেছি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু আজ যে বাংলাদেশ দেখছি, এই বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি কোনোদিন দেখিনি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ এখানে খুব বেশি ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। আজ শুধু ডেইলি স্টার বা প্রথম আলো নয়—আঘাত এসেছে গণতন্ত্রের ওপর। স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অধিকার, কথা বলার অধিকার—সবকিছুই আবার আঘাতের মুখে পড়েছে। জুলাই যুদ্ধের ওপরও আঘাত এসেছে, কারণ সেই যুদ্ধ ছিল এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।”

বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার এই লড়াই কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়। “আজ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, কোনো একক সংগঠন নয়—সব গণতন্ত্রকামী মানুষের এক হওয়ার সময় এসে গেছে,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা যারা অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে চাই, যারা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, তাদের জন্য শুধু সচেতন থাকাই যথেষ্ট নয়। এখন রুখে দাঁড়াতে হবে।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “আমি আহ্বান জানাচ্ছি—শুধু প্রতিবাদ সভা করা বা মানববন্ধনের মধ্যেই যেন আমাদের প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ না থাকে। সর্বক্ষেত্রে, সর্বশক্তি নিয়ে যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে।”

তার বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় বৃহত্তর ঐক্যের ডাক স্পষ্টভাবে উঠে আসে, যা সভায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।