রাজনীতি

পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরের বিরুদ্ধে কাজ করায় বিএনপির আরও ১২৯টি কমিটি বিলুপ্ত


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরের বিরুদ্ধে কাজ করায় বিএনপির আরও ১২৯টি কমিটি বিলুপ্ত
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির বিদ্যমান আরও ১২৯টি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গলাচিপা উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্তে এসব কমিটি বাতিল করা হয়।

গত বুধবার আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা ও সদস্যসচিব আলতাফ খান স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয়তা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, গলাচিপা পৌরসভায় বিএনপির ৯টি ইউনিট কমিটি ছিল। এছাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন কমিটির অধীনে মোট ১০৮টি ওয়ার্ড কমিটি সক্রিয় ছিল। এসব কমিটির বেশিরভাগ নেতা-কর্মী গত তিন বছর ধরে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি এবং দশমিনা যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত জোট প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিকভাবে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ১৭ জানুয়ারি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি দুটি বাতিল করা হয়। পরে ২ ফেব্রুয়ারি ওই দুই উপজেলায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ ফেব্রুয়ারি গলাচিপা উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দশমিনা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

এছাড়া ৩ ফেব্রুয়ারি দশমিনা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান এবং গলাচিপা যুবদলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম মিন্টু ও সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মঈনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে ২১ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজির আহমেদকে বহিষ্কার করে একই পদে আবুল বশারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, বিলুপ্ত হওয়া অনেক কমিটির নেতা-কর্মী দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের পর এক কমিটি বাতিল ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটছে। তার দাবি, নুরুল হক নূরকে বিজয়ী করতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে, যা দলকে দুর্বল করে তুলছে।

অন্যদিকে, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ কেউ বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছিলেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিএনপিকে অবহিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে পটুয়াখালী-৩ আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেন। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে ২৮ ডিসেম্বর তিনি দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।