রাজনীতি

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে: নাহিদ 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ এএম

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে: নাহিদ 
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত এবং ১৫ জুলাইয়ের হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বুধবার (১৫ জুলাই) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজিত ‘স্মৃতিগাঁথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার দেখেছি, যেখানে তিনি বলেছেন ডিসেম্বরে দেশে এসে আত্মসমর্পণ করবেন। আমরা জানি, ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের মাস। তবে তিনি কবে আসবেন, সেটা বাংলাদেশ সরকার নির্ধারণ করবে। তিনি দেশে আসা মাত্রই বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হবেন এবং তার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে।”

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকারও স্পষ্ট করেছে যে শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তার দাবি, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো আপিল করা হয়নি। তাই এখন আর আপিলের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা চাই সুপ্রিম কোর্ট ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ নিশ্চিত করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বহাল রাখুক এবং তা কার্যকরের ঘোষণা দিক।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। গবেষণাভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে শিক্ষক ও উপাচার্য নিয়োগে সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

১৫ জুলাইয়ের ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই দিনের হামলাকারীদের তালিকা প্রকাশ করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাই নিয়ে অবশ্যই রাজনীতি করতে হবে। কারণ নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে জুলাইয়ের রাজনীতি। আমরা আর স্বৈরতন্ত্রে ফিরতে চাই না। আমরা গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল আমিন ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব মাহীন সরকার, যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার।