রাজনীতি

বিএনপির জোট ছাড়লেন মান্না, এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

বিএনপির জোট ছাড়লেন মান্না, এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট থেকে সরে দাঁড়িয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন দল নাগরিক ঐক্য। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জেএসডির পর এবার নাগরিক ঐক্যের এই সিদ্ধান্তে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলেও বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত ছাড় না পাওয়ায় নাগরিক ঐক্য জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচনী আসন বগুড়া-২ এ বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওই মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়।

নাগরিক ঐক্যের নেতারা জানান, বিষয়টি নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দলটি এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ‘একলা চলো’ নীতিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি দলের ১২ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেন।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ মোফাখখারুল ইসলাম রংপুর-৫, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন জামালপুর-৪ এবং আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব সিরাজগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এ ছাড়া দলের অর্থ সম্পাদক শাহনাজ রানু পাবনা-৬, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্বপন মজুমদার চট্টগ্রাম-৯, অধ্যাপক এনামুল হক চাঁদপুর-২, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল সালাম কুড়িগ্রাম-২, ডা. শামসুল আলম রাজশাহী-২ এবং মোহাম্মদ রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুর-২ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জয়পুরহাট-২ আসনেও নাগরিক ঐক্যের একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে তিনি এখনও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি।

এ সময় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। এই অধিকার কোনোভাবেই সংকুচিত হতে দেওয়া যাবে না। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও গণশপথের মধ্য দিয়েই আগামী দিনের সংস্কার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন হলেও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। নাগরিক ঐক্য শুরু থেকেই বলে আসছে, যে ঐক্যের ভিত্তিতে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, সেই ঐক্য নির্বাচন পর্যন্ত টিকে থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। নির্বাচনে প্রতিটি দল নিজ নিজ এজেন্ডা ও কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে যাবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, নাগরিক ঐক্যের নির্বাচনি ইশতেহার খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে দলটি একমত এবং এ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়াই দলের মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এর অংশ হিসেবে আজ ১২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে আসন সমঝোতা না হওয়ায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জেএসডিও এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। নাগরিক ঐক্যের এই সিদ্ধান্তে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।