ধর্ম
‘ইমানের সঙ্গে সুন্দর মৃত্যু’ লাভের বিশেষ উপায়
‘হুসনুল খাতিমা’ অর্থাৎ ‘ইমানের সঙ্গে সুন্দর মৃত্যু’ প্রত্যেক মুমিনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। দুনিয়ার যাত্রা যত দীর্ঘই হোক, শেষ মুহূর্তটাই বান্দার প্রকৃত সফলতা বা ব্যর্থতার পরিচয়। তাই কোরআন, সুন্নাহ এবং সালাফদের জীবন থেকে এমন কিছু আমল জানা যায়, যেগুলো মানুষকে সঠিক সমাপ্তির দিকে নিয়ে যায়।
উত্তম মৃত্যু লাভের এমন কিছু উপায় হলো;
১. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালিমায় অটল থাকা
আমরা যদি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এ কালিমার ব্যাপক তাৎপর্য অনুযায়ী আমাদের জীবনকে পরিচালনা করতে পারি, তবে আমাদের জন্য উত্তম মৃত্যু পাওয়া সহজতর হবে। মু’আয (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে (অর্থাৎ এই কালেমা পড়তে পড়তে যার মৃত্যু হবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩,১১৬; আহমাদ, হাদিস: ২১৫২৯)
তবে এই সৌভাগ্য হঠাৎ করে আসে না; আসে সেই ব্যক্তির জন্য, যে জীবনে তওহিদের হক সুন্দর ভাবে আদায় করতে পেরেছে, আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যে জীবন কাটিয়েছে এবং গুনাহ থেকে দূরে থেকেছে।
২. আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস
বান্দার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালার প্রতি সুধারণা পোষণ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা যে দয়াবান, ন্যায়বান, ক্ষমাশীল এ কথাগুলো বান্দার অন্তরে গেঁথে নিতে হবে। তবে সুধারণা মানে এমন নয় যে, ইচ্ছা করে গুনাহ করে যাবো আর আশা করবো তিনি তো সবকিছু ক্ষমা করে দেবেন।
সাইদ ইবনে জুবাইর (রা.) ‘ফাযকুরুনী আয কুরুকুম’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘তোমরা আমাকে আনুগত্যের মাধ্যমে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমার মাধ্যমে স্মরণ করব।’
তাই সুধারণা হতে হবে আনুগত্যপূর্ণ সুধারণা। আশা, ভয় আর ভালবাসা মিশ্রিত সুধারণা। তবেই আমাদের শেষ আমল উত্তম হতে পারে। আর ‘সর্বশেষ আমলই কোনো বান্দার প্রকৃত আমল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১২)
৩. বেশি পরিমাণে মৃত্যুর স্মরণ
মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করার বড় একটি উপকার হচ্ছে, অন্তর থেকে দুনিয়ার আসক্তি দূর হয় এবং পরকালের চিন্তা সৃষ্টি হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব ভোগ-উপভোগ বিনাশকারী মৃত্যুকে তোমরা বেশি বেশি স্মরণ করো। (তিরমিজি, হাদিস ২৩০৭)
৪. পুণ্যের কাজ করা
প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো পুণ্যের কাজ পছন্দ করা। ভালো কাজের প্রচেষ্টা করা। আর পুণ্যের কাজে প্রচেষ্টা মুমিনের মৃত্যুযন্ত্রণা সহজ করে। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ভালো ও পুণ্যের কাজ খারাপ মৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে রাখে, গোপনে দান আল্লাহর ক্রোধ ঠাণ্ডা করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বয়স বৃদ্ধি করে। (তাবরানি কাবির, হাদিস : ৮০১৪)
৫. নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া
যারা ফরজ ও সুন্নত নামাজের প্রতি যত্নশীল হবে মহান আল্লাহ তাদের মৃত্যুযন্ত্রণা সহজ করবেন এবং জান্নাতে তাদের বিশেষ স্থান দেবেন। নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সংরক্ষণ করবে তথা যথাযথভাবে অজু করে যথা সময়ে উত্তমরূপে রুকু-সিজদা করে নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।’ (মুসনাদে আহমদ : ৪/২৬৭)
মহান আল্লাহ সবাইকে মৃত্যুকালে ঈমানি মৃত্যু দান করুন।