ধর্ম

মক্কার আজান কেন আলাদা? কেন এই সুর কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন?


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

মক্কার আজান কেন আলাদা? কেন এই সুর কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন পবিত্র মক্কা নগরী। আর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের আজান কেবল একটি নামাজের আহ্বানই নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে এক পরম আবেগ ও প্রশান্তির নাম।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, মক্কার আজান কেন বিশ্বের অন্য যেকোনো প্রান্তের চেয়ে আলাদা এবং কেন এটি আমাদের হৃদয়ে অন্যরকম কম্পন সৃষ্টি করে? পবিত্র মক্কার আজানের রয়েছে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা একে অনন্য করে তুলেছে:

Ajan.jpg
ছবি: সংগৃহীত

মাকাম-এ-হিজাজি বা অনন্য সুর: মক্কার আজানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর নির্দিষ্ট সুর বা স্বরভঙ্গি। মক্কার মুয়াজ্জিনরা সাধারণত ‘মাকাম-এ-হিজাজি’ নামক একটি বিশেষ আরবীয় সুরে আজান দেন। এই সুরটি অত্যন্ত গুরুগম্ভীর অথচ প্রশান্তিদায়ক। এটি কেবল কণ্ঠের কারুকার্য নয়, বরং এর মধ্যে মরুভূমির ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার এক গভীর ছাপ রয়েছে।

বংশপরম্পরায় মুয়াজ্জিন নিয়োগ: মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন নিয়োগের প্রক্রিয়াটিও বেশ স্বতন্ত্র। এখানে সাধারণত বংশপরম্পরায় নির্দিষ্ট কিছু পরিবার আজান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ছোটবেলা থেকেই তাদের কণ্ঠের প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ উচ্চারণের তালিম দেওয়া হয়। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মক্কার আজানের সেই আদি ও অকৃত্রিম সুরটি সংরক্ষিত রয়েছে।

ajan 1.jpg
ছবি: সংগৃহীত

একই সাথে একাধিক মুয়াজ্জিনের উপস্থিতি: মক্কার আজানে একজন প্রধান মুয়াজ্জিনের পাশাপাশি ব্যাকআপ হিসেবে আরও কয়েকজন মুয়াজ্জিন প্রস্তুত থাকেন। এর পেছনে কাজ করে শত বছরের ঐতিহ্য ও নিখুঁতভাবে আজান সম্পন্ন করার সতর্কতা। মুয়াজ্জিনদের জন্য নির্ধারিত ‘মুকাবারিয়া’ নামক উঁচু স্থান থেকে আজান দেওয়া হয়, যা ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

উচ্চ প্রযুক্তির নিখুঁত শব্দশৈলী: বর্তমানে মক্কার আজানকে বিশ্বের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত হয় সর্বাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। প্রায় ৭ হাজার লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজানের ধ্বনি প্রচার করা হয়। নিখুঁত ইকো ও শব্দের গভীরতা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন তা সরাসরি মানুষের হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করে।

makka.jpg
ছবি: সংগৃহীত

বিলন বা দীর্ঘস্থায়ী টান: মক্কার আজানে ‘আল্লাহু আকবার’ বা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার সময় যে দীর্ঘ ও গম্ভীর টান ব্যবহার করা হয়, তা অন্য দেশ বা অঞ্চলের আজানের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। এই বিশেষ ঢং মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের সাধনার ফসল।

মক্কার আজান কেবল একটি সুর নয়, এটি ইসলামের আভিজাত্য এবং আধ্যাত্মিক শক্তির এক অনুপম বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিন পাঁচবার কাবার চত্বর থেকে ভেসে আসা এই ধ্বনি মনে করিয়ে দেয় স্রষ্টার মহানুভবতা ও ইসলামের ঐক্য।