সারাদেশ
বাবার নির্দেশে ভাইয়ের চোখ উপড়ে নিল দুই ভাই, মুলাদীতে চাঞ্চল্য
বরিশালের মুলাদীতে গচ্ছিত টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস ঘটনা। বাবার নির্দেশে দুই ভাই মিলে অপর ভাইয়ের দুই চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের আশেদ ব্যাপারীর বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশেদ ব্যাপারীর মেজ ছেলে রোকন ব্যাপারী ও ছোট ছেলে স্বপন ব্যাপারী মিলে তাদের সেজ ভাই সিরাজুল ইসলাম ওরফে রিপন ব্যাপারীর (৩৬) দুই চোখ নির্মমভাবে উপড়ে ফেলে।
ভুক্তভোগীর ছেলে আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, তার বাবার গচ্ছিত রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে এ বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাদের বাবা আশেদ ব্যাপারী নিজেই রিপনকে মারধর করেন এবং দুই ভাইকে চোখ উৎপাটনের নির্দেশ দেন। বাবার আদেশেই রোকন ও স্বপন রিপনের চোখ উপড়ে বাবার হাতে তুলে দেন।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে গুরুতর আহত রিপনকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদীর আশুকাঠি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়রা জানান, রিপন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা ও স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করতেন। অবৈধ পথে অর্জিত সেই সম্পদ তিনি মেজ ভাই রোকন ব্যাপারীর কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে রিপন সেই টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাইলে রোকন অস্বীকার করেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিস বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।
রিপনের বড় ভাই খোকন ব্যাপারী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় থেকে রিপন বাড়ি ফেরেন এবং আবারও রোকনের কাছে টাকা চান। এতে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাবার নির্দেশে রোকন ও স্বপন মিলে রিপনের দুই চোখ উপড়ে ফেলে। ঘটনার পর আশেদ ব্যাপারীসহ অভিযুক্ত তিনজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে মুলাদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দুই ভাই মিলে আরেক ভাইয়ের দুই চোখ উপড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহত রিপনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপনের বিরুদ্ধে ঢাকার রমনা থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে। এছাড়া মুলাদী থানায় হত্যা মামলাসহ তার নামে কমপক্ষে ২০টি মামলা চলমান রয়েছে।
এই নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব যেভাবে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে, তাতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।