সারাদেশ

পরকীয়ার টানে চলে গেছেন মা, বাবার কবরের পাশে বসে থাকে দুই অসহায় শিশু


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

পরকীয়ার টানে চলে গেছেন মা, বাবার কবরের পাশে বসে থাকে দুই অসহায় শিশু
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের হিরাধর গ্রামে হৃদয়বিদারক এক মানবিক সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। পরকীয়ার টানে সংসার ছেড়ে চলে গেছেন আসমা বেগম নামে এক নারী। তার কিছুদিন পরই প্রতিবন্ধী স্বামী নাসির হাওলাদার বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন।

এতে করে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়ে তাদের দুই শিশু সন্তান মেহেদী ও মাইনুল। মা-বাবা দুজনকেই হারিয়ে তারা এখন জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রায়ই দেখা যায়, তারা বাবার কবরের পাশে চুপচাপ বসে থাকে—হয়তো এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি, বাবা আর কখনো ফিরবেন না।

জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর আগেই দুই সন্তানকে রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান মা আসমা বেগম। এরপর থেকে সন্তানদের কোনো খোঁজখবরও নেননি তিনি।

বর্তমানে শিশু দুটির একমাত্র আশ্রয় তাদের ষাটোর্ধ্ব দাদি রিজিয়া বেগম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা গ্রামের মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা করে কোনোমতে নিজের ও নাতিদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দিন দিন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় তার পক্ষে এই দায়িত্ব বহন করা কঠিন হয়ে উঠছে।

বড় ছেলে মেহেদী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ছোট ছেলে মাইনুলের সঙ্গে সেও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। কিন্তু চরম দারিদ্র্যের কারণে তাদের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক সময় তিনবেলা খাবারও জোটে না তাদের ভাগ্যে।

এলাকাবাসী জানান, শিশু দুটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। দ্রুত সহায়তা না পেলে তাদের শিক্ষা, পুষ্টি ও ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

স্থানীয় সচেতন মহল, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—এই দুই অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়াতে।

তাদের মতে, সামান্য সহায়তাই বদলে দিতে পারে মেহেদী ও মাইনুলের জীবন। নিশ্চিত করতে পারে তাদের শিক্ষা, খাদ্য ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

আজ তারা হয়তো শৈশবের সরলতায় দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু বড় হয়ে যখন নিজেদের বাস্তবতা বুঝতে পারবে, তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে—এই পৃথিবীতে তাদের আপনজন কে?

মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন গুনছে দুই অবুঝ শিশু। সমাজের সামান্য সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসাই পারে তাদের জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে।