সারাদেশ
‘জয় বাংলা’ গান বাজিয়ে পার্টি, আ.লীগ ভেবে ছাত্র-জনতার উপর হামলা
চাঁদপুরে ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ গান বাজানোকে কেন্দ্র করে একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাতে জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে আয়োজিত একটি মিউজিক পার্টিতে গানটি বাজানো হলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি সেটিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম মনে করে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় অনুষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং একজন ছাত্র আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকদের বরাতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া কিছু শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ মিলে জেলা আওয়ামী লীগের পুরোনো ও বর্তমানে পরিত্যক্ত কার্যালয়ের নিচতলায় এক ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক গান বাজানো হচ্ছিল, যার মধ্যে ছিল ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ এবং ‘পালিয়েছে, শেখ হাসিনা পালিয়েছে’—গান দুটি।
তবে, গান শোনার পর কিছু মানুষ ভেবে বসে আওয়ামী লীগ সেখানে সংগঠিত হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে ‘ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করো’ স্লোগান দিতে দিতে হামলা চালায়। মিউজিক পার্টির জন্য আনা সাউন্ড সিস্টেমসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে আরিয়ান আহমেদ নামে একজন শিক্ষার্থী আহত হন, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হন চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া। একই সময়ে ঘটনাটি জানতে পেরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সলিমুল্লাহ সেলিম ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন। পুলিশের মাইক ব্যবহার করে তিনি সবাইকে সরে যেতে বলেন এবং উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গান ও ব্যানার দেখে প্রথমে পুলিশ কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও পরে বুঝতে পারে এটি ব্যঙ্গাত্মক একটি আয়োজন, তাই তারা সরিয়ে নেয় নিজেদের উপস্থিতি। কিন্তু ফরিদগঞ্জ থেকে আগত বিএনপির একজন নেতার ভুল বোঝাবুঝি থেকে হঠাৎ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিএনপি নেতা সলিমুল্লাহ সেলিম এ বিষয়ে বলেন, “ঘটনার সময় আমি চাঁদপুর ক্লাবে ছিলাম। ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। তখন পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। আমি সময়মতো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।”
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া বলেন, “ঘটনার পর এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি বা মামলা দায়ের হয়নি।”