সারাদেশ
কিশোর গ্যাং লিডারের সঙ্গে ছাত্রদল নেতার ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লায় কথিত কিশোর গ্যাং লিডার রতনের সঙ্গে মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে নগরজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাং সদস্যদের উপস্থিতি এবং তাদের কথিত আশ্রয় প্রশ্রয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মো. মহসিন একটি মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার ঠিক পেছনে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রতনকে হাঁটতে দেখা যায়।
নগরীর কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাং সদস্যদের অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয় প্রশ্রয় পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলা শহর ও আশপাশের এলাকায় ৫০টির বেশি ছোট বড় কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে অন্তত ২০টি থেকে অর্ধশত গ্রুপের নাম ও তৎপরতা আলোচনায় এসেছে। এসব গ্রুপের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক স্টার, ডার্ক, ইগল, আরজিএস, র্যাক্স, এক্স, এলআরএন, সিএমসি, আধুনিক, রকলতার, ডিস্কো বয়েজ, বস, কিং স্কোয়াড, রতন গ্রুপ, সিবিকে ও ক্রাইম সেটআপ।
কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী মো. মীর শাহ আলম বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা কথিত গডফাদার ও বড় ভাইদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। শুধু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার না করে তাদের পেছনে থাকা আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে মো. মহসিন বলেন, ওইদিন স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি দলীয় মিছিল ছিল। মিছিলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি পেছনের দিকে ছিলেন। তার সঙ্গে একজন কথিত সন্ত্রাসী হেঁটেছেন, বিষয়টি তার খেয়াল ছিল না বলেও জানান তিনি।
মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, কোনো চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য যদি মহসিনের সঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হবে।
কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এ কে এম সাহেদুল পান্না বলেন, দলীয় কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতারা অংশ নেন। তবে কীভাবে একজন কিশোর গ্যাং লিডার সেখানে যুক্ত হলো, তা তার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের কুমিল্লার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাং সদস্যদের শুধু মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে না দিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়।