সারাদেশ
মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ, কক্সবাজারের হোটেলে মিলল দুই কিশোরী
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া দুই কিশোরীকে কক্সবাজার থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের পর তাদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে সমুদ্রসৈকত এলাকার একটি হোটেলের কক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরী হলো-চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মহিন উদ্দিনের মেয়ে মাহিমা ইসলাম মাহি (১২) এবং একই এলাকার যুগিরকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে তানিসা আক্তার (১৪)।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহিমা ও তানিসা নিজ নিজ বাড়ি থেকে কাশিনগর এলাকার আল-আমিন মহিলা মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা মাদ্রাসায় পৌঁছায়নি। পরে বাড়িতেও ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের খোঁজ করতে থাকেন।
দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশনায় চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান শুরু করেন। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় নিখোঁজ দুই কিশোরীর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, দুই কিশোরী কক্সবাজারে অবস্থান করছে। পরে বিষয়টি কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে জানানো হলে তারা অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকার গ্রীণ প্যারাডাইজ হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষ থেকে মাহিমা ও তানিসাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোরী পুলিশকে জানায়, পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে তারা স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কক্সবাজারে চলে যায়। তবে কীভাবে তারা কক্সবাজারে পৌঁছেছে এবং সেখানে অবস্থানের বিস্তারিত বিষয় পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।