সারাদেশ

ভারতে বসবাস, বেতন বাংলাদেশে, অধ্যক্ষ দম্পতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫, ১২:৫৯ পিএম

ভারতে বসবাস, বেতন বাংলাদেশে, অধ্যক্ষ দম্পতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ দুর্লভানন্দ বাড়ৈ ও তার স্ত্রী সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক চম্পা রানী মন্ডলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ভারতে বসবাস করেও নিয়মিত বাংলাদেশ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক দম্পতিটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কল্যাণী এলাকায় একটি বাড়ি কিনে দীর্ঘদিন সেখানেই বসবাস করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বছরজুড়েই তারা অধিকাংশ সময় ভারতে অবস্থান করেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ দুর্লভানন্দ বাড়ৈ বলেন, “আমার স্ত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ছুটি নিয়ে ভারতে রয়েছেন। দুই দফায় ছয় মাসের ছুটি নেওয়া হয়েছে এবং তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।” তবে স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় এই দম্পতি ভারতে চলে যান। অধ্যক্ষ কিছুদিন পর দেশে ফিরে আসলেও তার স্ত্রী এখনো ভারতে রয়েছেন।

জানা গেছে, চম্পা মন্ডল ভারতে যাওয়ার আগে ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর করে রেখে যান, যার মাধ্যমে দেশে না থেকেও নিয়মিত তার বেতন উত্তোলন করা হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির সত্যতা পাওয়া যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৮ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে উভয়ের এমপিও বাতিল করা হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন মাউশির সিনিয়র সহকারী সচিব দীপায়ন দাস শুভ।

অধ্যক্ষ ভারতে অবস্থানকালে কলেজের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী অধ্যাপক বিমল পান্ডে।

কলেজের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, দুর্লভানন্দ ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন কলেজের পরিচালনা পর্ষদ ও প্রশাসনের একটি চক্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে অনিয়ম চালিয়ে আসছেন। তাদের সহযোগিতায় কাজ করছেন কলেজ অফিস সহায়ক সজল সরকার।

নবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রেমানন্দ সরকার বলেন, “দুর্লভানন্দ বাড়ৈ অনিয়ম করে চাকরি নিয়েছেন। ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও তিনি বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত বেতন তুলছেন। তার স্ত্রীও সেখানেই আছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি কলেজে এক মাসের বেশি ছুটি গ্রহণের সুযোগ নেই, তিনি নিয়েছেন ছয় মাস।”

এ বিষয়ে ডাসার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল আরেফীন জানান, “বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই ঘটনায় শিক্ষা মহল এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—দেশে না থেকেও কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুবিধা গ্রহণ সম্ভব হয়, এবং সেই প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত! স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।