সারাদেশ
ময়মনসিংহে জন্মদিনের কেক কেটে বাড়ি ফেরার পথে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা
ময়মনসিংহে নিজের ২৩তম জন্মদিন উদ্যাপন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৩) নামের এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত একটার দিকে গফরগাঁও পৌর শহরের শিলাসী মাজার রোড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রাজীব নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে দুটি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত নাহিয়ান রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা মোফাজ্জল হোসেন পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। স্বজনদের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সমর্থক ছিলেন এবং রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ছিল নাহিয়ানের জন্মদিন। রাত ১২টা ১ মিনিটে গফরগাঁও ডাকবাংলো এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে কেক কাটার পর তিনি প্রতিবেশী বন্ধু শাকিবুল হাসানের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে শিলাসী মাজার রোড এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তিন থেকে চারজন দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়।
এতে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান শাকিবুল। পরে দুর্বৃত্তরা দুজনকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে শাকিবুল সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হলেও নাহিয়ানকে একা পেয়ে রড দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
পরে স্থানীয়রা নাহিয়ানকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শাকিবুল হাসান জানান, হঠাৎ মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে তাদের থামিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের মুখ বাঁধা থাকায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। আটক ব্যক্তির সঙ্গে নিহতের পূর্ব বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ বিশ্বাস জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।