সারাদেশ

চট্টগ্রামে বিএনপি নেতার ছেলের বাইক আটক করায় পুলিশ বক্স ঘেরাও   


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

চট্টগ্রামে বিএনপি নেতার ছেলের বাইক আটক করায় পুলিশ বক্স ঘেরাও   
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলের মোটরসাইকেল আটক করাকে কেন্দ্র করে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উত্তেজনা, পুলিশ বক্স ঘেরাও এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরের বড়পোল মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। রোববার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। 

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হলেন ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আরজু।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে এসে ওই বিএনপি নেতা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং তাদের হুমকি দেন। ঘটনার পর দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন পুলিশ সদস্য বদলির আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে বড়পোল মোড় অতিক্রম করার সময় ট্রাফিক পুলিশ সেটি থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে সেটি আটক করা হয়। এ নিয়ে প্রথমে চালকের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তিনি তার বাবাকে ফোন করলে কয়েক মিনিটের মধ্যে আনোয়ার হোসেন আরজুসহ শতাধিক নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ বক্স ঘেরাও করেন। এ সময় বক্সের ভেতরে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্য এবং পরে ঘটনাস্থলে যাওয়া টহল পুলিশের সদস্যদেরও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই পুলিশ সদস্য জানান, বিএনপি নেতা নিজেকে চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করেন এবং বদলির হুমকি দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনের পর মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন পুলিশ সদস্য দাবি করেছেন, ঘটনার পর তাদের থানায় ডেকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং তাদের বদলির বিষয়েও আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন আরজুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সুলতান মো. আহসান উদ্দিন বলেন, ট্রাফিক সার্জেন্ট একটি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

ট্রাফিক বিভাগের হালিশহর জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. আসাদ বলেন, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আইন অনুযায়ী সেটি টো করা হয়েছিল। পরে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে সামান্য কথা-কাটাকাটি হলেও বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।