সারাদেশ

বাংলা ভাষায় কথা বলা ও মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশে পুশইন


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

বাংলা ভাষায় কথা বলা ও মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশে পুশইন
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম পরিচয়ের কারণে এক ভারতীয় নারীকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ‘পুশইন’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বৈধ নাগরিকত্বের সব ধরনের কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ঘটনার বিচার ও তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির (৫০)। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে গত দুই দশক ধরে মুম্বাইয়ে বসবাস ও কাজ করছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ জুলাই মুম্বাইয়ে বাজার করতে গেলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তাকে আটক করে পুলিশ। তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর চেষ্টা করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আটকের পর সাইদাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরের আসামের একটি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়। পরে ২৩ জুলাই কোনো ধরনের পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়া বা নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়াই আসাম সীমান্ত দিয়ে তাকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করা হয়।

পরিবারের দাবি, বর্তমানে সাইদা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে ভিডিও কলে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় সাইদাকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা এবং কথিত বেআইনি পুশব্যাকের বিচার চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)’ ও তার পরিবার কলকাতা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মামলার শুনানিতে সাইদা ফকিরের ভোটার আইডি, প্যান কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং পৈতৃক জমির দলিল আদালতে উপস্থাপন করা হয়, যা তার ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত আদেশ দেননি।