সারাদেশ
ভাতের সাথে ঘুষ খাচ্ছেন ঠাকুরগাঁও রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার
জমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে আসা সেবাপ্রার্থীরা। তাদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না। বরং অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন কিংবা রেকর্ডসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখা হয়। এমনকি অফিস চলাকালীন খাবার খাওয়ার সময়ও ঘুষের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের দৃশ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, খাবার খাওয়ার সময় টেবিলে বসেই এক সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ জমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এ অফিসে এলেও সরকারি নিয়মে আবেদন করার পরও অনেকের কাজ সময়মতো সম্পন্ন হয় না। প্রয়োজনীয় নথি দ্রুত পেতে কিংবা ফাইল এগিয়ে নিতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। অন্যথায় নানা অজুহাতে সেবা বিলম্বিত করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাপ্রার্থী জানান, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। ভোগান্তির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না। ফলে বছরের পর বছর ধরে একই ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলেও কার্যকর প্রতিকার মিলছে না।
তাদের দাবি, সরকারি সেবাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি খাবার খাওয়ার সময় একজন ব্যক্তি চারটি জমির দলিলের নকল তোলার জন্য আমার কাছে আসেন। তিনি চারটি নকলের সরকারি ফি বাবদ ৪ হাজার টাকা দিয়েছেন। এর বাইরে আমি কোনো অতিরিক্ত টাকা নিইনি।”
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকলে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রেজিস্ট্রার অফিসে কথিত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এবং গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।