সারাদেশ
সেই ২০ জনকে আবারও পুশ-ইনের চেষ্টা, রাতভর লাঠি হাতে পাহারায় স্থানীয়রা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
ঘটনার পর শনিবার (২০ জুন) রাত থেকে সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোটা ও টর্চ লাইট নিয়ে বিজিবির সঙ্গে রাতভর পাহারায় অংশ নেন। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সাধারণ মানুষও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এ ছাড়া পুশইন ঠেকাতে এবং সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত কেউ দেখা গেলে দ্রুত খবর দেওয়ার জন্য গ্রামে গ্রামে মাইকিং করা হচ্ছে। স্থানীয় মসজিদের মুসল্লিদেরও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করছে বিজিবি।
সাম্প্রতিক ১৬ দিনের মধ্যে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মোট চার দফায় ৬৪ নারী-পুরুষকে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তাদের আবারও ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জন নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। পরে প্রায় ছয় ঘণ্টা তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করে। তাদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৫ জন পুরুষ এবং ৪ জন শিশু ছিল। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের আবারও নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।
এর আগে ভোর ৬টার দিকেও একই সীমান্ত দিয়ে আরেক দফা পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধায় সেটি ব্যর্থ হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বর্তমানে কঠোর নজরদারি, টহল ও সতর্কতা জোরদার করেছে বিজিবি। জনবল বাড়ানো হয়েছে তিনটি ব্যাটালিয়নে। পাশাপাশি নদী ও বিলে নৌকা দিয়ে এবং স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে টহল চলছে। রাতে নাইট ভিশন ক্যামেরা ব্যবহার করে নজরদারি করা হচ্ছে।
গত ১৫ জুন রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে পুশইনের চেষ্টা হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে আবারও ফেরত পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় সীমান্ত এলাকার সাতজনকে আটক করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়।
এর আগে ১৩ জুন এবং ৪ জুন পৃথক আরও কয়েক দফায় নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বহু মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হলেও বিজিবির বাধায় তা ব্যর্থ হয় এবং পরে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সীমান্ত এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে, স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।