সারাদেশ
রংপুরের কাউনিয়ায় আরও দুইজন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় নতুন করে আরও দুইজন এবং মিঠাপুকুর উপজেলায় একজন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে রংপুর জেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।
বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে পীরগাছা উপজেলায় আটজন ও মিঠাপুকুরে একজন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত আগস্টে পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রায় ২০০ জন আক্রান্ত হন। ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধিদল ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করলে আটজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। একই সময় অসুস্থ গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষা করেও অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
১৫ সেপ্টেম্বর মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের আমাইপুর গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাইয়ের পর এলাকার কয়েকজন গরুর মাংস, রক্ত ও নাড়িভুঁড়ির সংস্পর্শে আসেন। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে চর্মরোগ দেখা দেয়। তাদের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হলে একজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. এম এ হালিম লাবলু জানান, আক্রান্তরা সংক্রমিত পশুর রস, রক্ত ও অন্যান্য অঙ্গের সংস্পর্শে এসে রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। রোগীদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে, যেন তারা সামাজিকভাবে কোনো সমস্যায় না পড়েন।
সর্বশেষ কাউনিয়া উপজেলায় পাঁচজনের শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে দুজনের দেহে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক আরবিন্দু কুমার মোদক। তিনি জানান, আইইডিসিআর-এর সহায়তায় স্বাস্থ্য সহকারীরা এখন নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করছেন এবং সাধারণ মানুষকে অ্যানথ্রাক্স সম্পর্কে সচেতন করছেন।
শুরুতে শুধু পীরগাছা উপজেলায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন অ্যানথ্রাক্স রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। পীরগাছায় ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ২০০-র বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।