সারাদেশ

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ আটক


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ আটক
বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ আটক। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ মাছের একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ঘোষণাপত্রে সাদা মাছ উল্লেখ থাকলেও চালানটিতে প্রায় সাড়ে ৩ টন ইলিশ মাছ পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামাল শেডে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়। ভারত থেকে আমদানিকৃত দুটি ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ হিসেবে বোয়াল, ফলিও ও বাঘাইর মাছের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫টি প্যাকেজের মধ্যে ৫৪টি প্যাকেজে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ মাছ। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল পাওয়ায় পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়। পচনশীল পণ্য বিবেচনায় অন্যান্য মাছ খালাসের অনুমতি দেওয়া হলেও ইলিশ মাছগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক ছিল মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল এবং বাংলাদেশের আমদানিকারক সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ। উভয় পক্ষের সমন্বয়ে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের উদ্দেশ্যে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরীক্ষণ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, “ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছে। কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”