সারাদেশ

হজ থেকে ফিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ: কোম্পানীগঞ্জের ওসি প্রত্যাহার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

হজ থেকে ফিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ: কোম্পানীগঞ্জের ওসি প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম খানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জেলার ‘শ্রেষ্ঠ’ ওসি হিসেবে পুরস্কৃত হওয়া এই কর্মকর্তা পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে যোগদানের মাত্র ১৫-২০ দিনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

এই প্রত্যাহার ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুরস্কারপ্রাপ্ত ও সদ্য হজ ফেরত এক কর্মকর্তাকে কেন হঠাৎ সরানো হলো—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসি শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারি ও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিময়ে এসব কর্মকাণ্ডে তিনি সহায়তা করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বালু ও পাথর সিন্ডিকেটের কাছ থেকে পুলিশের নামে চাঁদা আদায়ের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও জোরালো হয়।

আব্দুল করিম নামে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার ট্রাক আটকের পর মামলার চার্জশিটের খরচের কথা বলে ওসি তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হয় বলেও তিনি জানান।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ করেন, অর্থ ছাড়া কোনো কাজ করতেন না ওসি শফিকুল ইসলাম। এমনকি এক আসামিকে না পেয়ে তার বৃদ্ধ মাকে ধরে এনে হয়রানির অভিযোগও তোলেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওসি শফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার একটি সূত্র জানায়, আদেশ জারির পরপরই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে নতুন কোনো ওসি নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার জানান, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।