খেলা
শেষ বলের নাটকীয়তায় রংপুরকে কাঁদিয়ে কোয়ালিফায়ারে সিলেট
মিরপুর স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বাম্পার উত্তেজনার মধ্যে শেষ বলে মেগা নাটক দেখলো বিপিএল দর্শকরা। সিলেট টাইটান্সকে কোয়ালিফায়ারে পৌঁছে দিতে শেষ বলেই ক্রিস ওকস করেছেন সেই চমক, যা রংপুর রাইডার্সকে বিদায় নিতে বাধ্য করেছে।
রংপুর শুরুতে ধাক্কা খেল। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে দল। তাওহীদ হৃদয় (৪), ডেভিড মালান (৪), লিটন দাস (১) ও কাইল মায়ার্স (৮) একে একে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এরপর পাকিস্তানি স্পিন অলরাউন্ডার খুশদীল শাহ ১৯ বলে তিন ছক্কায় ৩০ রান করে দলকে কিছুটা স্থিতি দিয়েছেন। মেহেদী মিরাজের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জুটি হয়েছিল খুশদীল ও মাহমুদউল্লাহর। মাহমুদউল্লাহ ২৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেললেও রংপুর শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১১১ রানে থামে।
উত্তেজনা শুরু হয় সিলেটের ব্যাটিংয়ে। ওপেনার তৌফিক খান ২ রানে আউট হলেও পারভেজ ইমন ও আরিফুল ইসলাম দ্বিতীয় উইকেটে ৩৬ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামলান। চারে নামা আফিফ (৩) দ্রুত ফিরে গেলে ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সিলেট।
তারপর আসে ম্যাচের মন্থর হলেও গুরুত্বপূর্ণ মোড়। স্যাম বিলিংস ও মেহেদী মিরাজ ৫০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন। ১৭তম ওভারের শেষ বল পর্যন্ত মিরাজ ২৩ বলে ১৮ রান করেন। কিন্তু শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৮ রান।
অলস হলেও চাপ সামলান আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজ। শেষ ওভারে ৯ রান প্রয়োজন হলে পাকিস্তানের পেসার ফাহিম আশরাফের বোলিংয়ে মঈন আলী আউট হন। শেষ বলে জয়ের জন্য ৬ রান দরকার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর লং-অফের ওপরে ক্রিস ওকসের ছক্কাই নায়ক হয়ে উঠল—সিলেট টাইটান্সকে নিশ্চিত করেছে কোয়ালিফায়ারে।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতে সিলেটের খালেদ ও ওকসও ছিলেন মারকাটারি। খালেদ ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন, ওকস ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। স্পিনার নাসুম ৪ ওভারে ১২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। রংপুরের মুস্তাফিজ ও আলিসও যথাক্রমে ২টি করে উইকেট নেন।