খেলা
মারাকানায় চিলিকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের আগে চমক দেখালো ব্রাজিল
বিশ্বকাপের আগে শেষবারের মতো ঘরের মাঠে খেলতে নেমেই দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিলো ব্রাজিল। ঐতিহাসিক মারাকানায় চিলিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে যেন উৎসব শুরু করে দিলো সেলেসাওরা। আর এই জয়ের পেছনে বড় অবদান রাখলেন তরুণ তারকা এস্তেভাও, লুকাস পাকেতা ও ব্রুনো গুইমারেস।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তির ইচ্ছাতেই ঘরের মাঠে চিলির বিপক্ষে ম্যাচটি আয়োজন করা হয় মারাকানায়—একটা ঐতিহাসিক জায়গা, একটা আবেগের নাম। আর সেই আবেগই যেন রূপ নিলো গোল উৎসবে।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল তারা। মাত্র ৫ মিনিটে ক্যাসেমিরো গোল পেলেও সেটা বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। তবে ৩৭ মিনিটে এসে এল সেই কাঙ্ক্ষিত গোল। রাফিনিয়ার শট প্রতিহত হলেও বল পেয়ে মাথার ওপর দিয়ে অসাধারণ শটে জালে পাঠান মাত্র ১৭ বছর বয়সী এস্তেভাও উইলিয়ান! কিংবদন্তি পেলের পর সবচেয়ে কম বয়সে গোল করলেন এই তরুণ।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পর বদলি খেলোয়াড়দের মধ্যে দারুণ ছন্দে ছিলেন লুইস হেনরিক ও লুকাস পাকেতা। বিশেষ করে হেনরিক যেন চিলির রক্ষণে আগুন লাগিয়ে দেন। তার অ্যাসিস্টেই হেডে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন পাকেতা। দর্শকেরা তখন স্টেডিয়াম মাতিয়ে দেন ‘পাকেতা! পাকেতা!’ ধ্বনিতে।

চার মিনিট বাদেই হেনরিকের শট থেকে ফের গোলের সুযোগ তৈরি হয়। বারে লেগে বাইরে চলে যাওয়া বল পায়ে লাগিয়ে ব্রুনো গুইমারেস করলেন ব্রাজিলের তৃতীয় গোল। তখন ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন সেলেসাওরা।
চিলির বিপক্ষে এ নিয়ে ৫৩তম জয় তুলে নিলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সবমিলিয়ে ৭৫ ম্যাচে এখন পর্যন্ত তারা জিতেছে ৫৩টি, যা একই দলের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি জয়ের বিশ্বরেকর্ড।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিল শিবিরে ছিল শুধু হাসি আর উল্লাস। পুরো ম্যাচে বলের ৬৪ শতাংশ ছিল তাদের দখলে, আর শট নিয়েছে ২২টি, যার ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে চিলি গোটা ম্যাচে মাত্র ৩টি শট নিতে পেরেছে—তার একটিও ছিল না অন টার্গেট।
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তি দেখিয়ে দিল আনচেলত্তির ব্রাজিল। মাঠে যেমন ফুটবল, ডাগআউটে তেমন এক স্ট্র্যাটেজিস্ট। সব মিলিয়ে ব্রাজিল এখন প্রস্তুত নতুন ইতিহাস লেখার জন্য।