খেলা
রেসলিং কিংবদন্তি হাল্ক হোগান মারা গেছেন
চলে গেলেন পেশাদার কুস্তির ইতিহাসের অন্যতম বড় তারকা হাল্ক হোগান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) স্থানীয় সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ডব্লিউডব্লিউই (WWE)।
হাল্ক হোগানের আসল নাম ছিল টেরি বোলিয়া। তবে হাল্ক হোগান নামেই তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন। রেসলিং দুনিয়ায় তিনি ছিলেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯৮০ ও ৯০ দশকে কুস্তির রিং কাঁপিয়েছেন তিনি। রিংয়ে তার শক্তিশালী চেহারা, চওড়া গোঁফ, হলুদ-লাল পোশাক আর ব্যতিক্রমী ভঙ্গিমা আজও ভক্তদের মনে গেঁথে আছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত ৯১১-এ ফোন করে সাহায্য চাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই হোগান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। কয়েকবার অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল, তিনি কোমায় রয়েছেন। যদিও তার স্ত্রী তখন সেই খবর অস্বীকার করেছিলেন।
রেসলিং ক্যারিয়ারে ছয়বারের ডব্লিউডব্লিউই চ্যাম্পিয়ন হন হাল্ক হোগান। প্রথম নয়টি রেসলম্যানিয়ার মধ্যে আটবারই প্রধান আকর্ষণ ছিলেন তিনি। WWE-কে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলতে তার অবদান ছিল অনন্য।
কুস্তির পাশাপাশি অভিনয় জগতেও পা রেখেছিলেন তিনি। সিনেমায় কাজ করার সময় নিজের নামের সঙ্গে ‘হলিউড’ যুক্ত করে পরিচিত হন 'হলিউড হাল্ক হোগান' নামে।

১৯৯৬ সালে WWE ছেড়ে ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ নামে নতুন রেসলিং শো শুরু করেন তিনি, যা WWE-র প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। এরপরও ২০০৫ সালে WWE তাকে ‘হল অব ফেম’ সম্মাননা দেয়।
তবে জীবনের শেষদিকে কিছু বিতর্কে জড়ান হোগান। ২০১৫ সালে একটি গোপন ভিডিও ফাঁস হলে তার ‘হল অব ফেম’ খেতাব কেড়ে নেয় WWE। পরে তিনি ভিডিও প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে জয়ী হন। আবার ২০২০ সালে তাকে ফের ‘হল অব ফেম’-এ ফিরিয়ে আনা হয়।
ব্যক্তিজীবনে হোগান ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থক। একাধিক নির্বাচনী প্রচারণায় অংশও নেন তিনি।