খেলা

ভারতকে টাইব্রেকারে কাঁদিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৯ এএম

ভারতকে টাইব্রেকারে কাঁদিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
ছবিঃ সংগৃহীত

সাফ অ-২০ টুর্নামেন্টে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। 

আজ শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে ভারতকে হারায় বাংলাদেশের ছেলেরা। পঞ্চম শটে আমেরিকান প্রবাসী রোনান সুলিভানের গোলে শিরোপা উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ শিবির।

এমনই হতে হতো! হলোও তাই। যে রোনান সুলিভান মোহময় এক ফ্রি কিকে স্বপ্নের শুরুটা গড়ে দিয়েছিলেন, ফাইনালের মঞ্চে সেই তার শটেই জয়টা এল। 

অরা ফার্মিং বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের সচেতন বা অচেতন আচরণ, যেখানে কোনো ব্যক্তি নিজের উপস্থিতি, ভঙ্গি, সিদ্ধান্ত ও মুহূর্তকে এমনভাবে ব্যবহার করেন যাতে তাকে অন্যদের চোখে আলাদা, আত্মবিশ্বাসী ও প্রভাবশালী মনে হয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিনি এই কাজটা এমনভাবে করেন, যেন তা তার কাছে একেবারেই ডালভাত।

রোনান আজ ম্যাচের শেষ দৃশ্যে ঠিক তাই করলেন। পেনাল্টিটা নিলেন পানেনকা শটে। তা গিয়ে জালে জড়াতেই মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আনন্দের বাধ ভেঙে গেল যেন৷ ভারতকে হারিয়ে যে চ্যাম্পিয়ন বনে গেল বাংলাদেশ!

অথচ ম্যাচের আগে ইতিহাসটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই কথা বলছিল। ছেলেদের জুনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশ আজকের আগ পর্যন্ত তিন বার ফাইনালে খেলেছে ভারতের বিপক্ষে। ২০১৯, ২০২২ আর ২০২৫ সালের সেই তিন ফাইনালে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

সব মিলিয়ে ফাইনালের আগে মানসিক চ্যালেঞ্জটাও ছিল বেশ বড়। তার ছাপ ফাইনালে দলের খেলাতে পড়েছে বেশ। গ্রুপপর্বে যে ভারতকে হেসে খেলে হারানো গিয়েছিল, সেই ভারতের বিপক্ষেই যখন ফাইনালে খেলতে হয়েছে দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে, তখন তো মনে হবেই যে, ভারত জুজুটা বুঝি আরও একবার পেয়েই বসল বাংলাদেশকে।

রোনান সুলিভানরা সুযোগ অবশ্য তৈরি করেছিলেন বেশ। তার ভাই ডেকলান সুলিভান সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাচের শেষ দিকে। শেষ মুহূর্তে তার বাঁড়ানো বল রোনানকে খুঁজে পেয়েই যাচ্ছিল বক্সে, শেষমেশ তাকে ঠেকান ভারত গোলরক্ষক। 

ভারতও সুযোগ তৈরি করেছে বটে, তবে সেসবও মোক্ষম কাজটা করে দিতে পারেনি। ফলে খেলাটা গিয়ে গড়ায় পেনাল্টি শ্যুট আউটে। 

সেখানেও কি কম নাটকীয়তার দেখা মিলেছে? টসে জিতে ভারত প্রথমে শট নেয়, তবে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মাহিন সেটি ঠেকিয়ে দেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।

চতুর্থ শটে স্যামুয়েল আসার আগে ভারতের গোলরক্ষক চোটের অজুহাতে সময় নষ্ট করেন। শেষ পর্যন্ত স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। চার শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। মনে হচ্ছিল ডার্ক আর্টের হাত ধরে বুঝি সাফল্যটা পেয়েই যেতে চলল ভারত, আরও একবার তীরে এসে তরি ডুবতে বসল বাংলাদেশের। 

পরিস্থিতি আবারও বদলে যায় পঞ্চম শটে। ভারতের সর্বোচ্চ গোলদাতা বল পাঠান পোস্টের উপর দিয়ে। এরপর আমেরিকান প্রবাসী রোনান তার জাদুর ঝাঁপি থেকে বের করে বসেন সেই অরা ফার্মিং মুহূর্তটা। 

বাংলাদেশও তাতে ইতিহাস গড়ে বসে। যুব সাফের ফাইনালে প্রথমবারের মতো হারায় ভারতকে। ২০২৪ সালের পর আরও একবার দক্ষিণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন বনে যায় বাংলাদেশ।