খেলা

আপনারা শুধু সমালোচনাই করেছেন, বিশ্বকাপের আনন্দ দেখেননি: ইনফান্তিনো


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম

আপনারা শুধু সমালোচনাই করেছেন, বিশ্বকাপের আনন্দ দেখেননি: ইনফান্তিনো
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে ওঠা নানা সমালোচনার জবাবে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সমালোচকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনে তিনি বলেছেন, সমালোচনায় ব্যস্ত থাকায় তারা বিশ্বকাপের আনন্দ, ঐক্য ও সফলতা দেখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে এমন একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে, যা ছিল আনন্দ, নিরাপত্তা, ঐক্য এবং সহাবস্থানের প্রতীক।

স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া আসরটি বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে এক সুতোয় গেঁথেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইনফান্তিনো লেখেন, “আপনারা ঘৃণা আর সমালোচনায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে পুরো বিষয়টাই দেখতে পাননি। যারা কলম, কাগজ কিংবা পর্দার আড়াল থেকে ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছেন, তাদের বলতে চাই—আপনারা যখন বসে ছিলেন, তখন আমরা বিশ্বসেরা আয়োজনটি সফল করতে মাঠে কাজ করেছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, পুরো টুর্নামেন্টে কোনো বড় ধরনের সহিংসতা বা নিরাপত্তা সমস্যা ঘটেনি। তার ভাষায়, “আমরা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। ছিল শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।”

তবে ইনফান্তিনোর এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় ফিফা তদন্ত চালাচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। কয়েকটি দেশের সমর্থক, কর্মকর্তা এবং ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ভিসা জটিলতায় পড়েন। এমনকি বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার এক আন্তর্জাতিক রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান দলকেও তাদের অনুশীলন কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় স্থানান্তর করতে হয়। পরে গ্রুপ পর্বে অংশ নিতে দলটিকে একাধিকবার সীমান্ত অতিক্রম করতে হয়েছে।

এসব সমালোচনার জবাবে ইনফান্তিনো বলেন, কয়েকজন ভিসা না পেলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো দর্শক নির্বিঘ্নে বিশ্বকাপ উপভোগ করেছেন। তিনি বলেন, “ফুটবল মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, ঐক্য গড়ে তোলে। ইরানও কোনো সংঘাত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। ফুটবল শান্তির প্রতীক, এটি রাজনীতির বিষয় নয়।”

যদিও বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই তাদের দলকে আসরের “সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এ ছাড়া ম্যাচ পরিচালনা ও শৃঙ্খলাবিষয়ক কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড়ের লাল কার্ড-পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত সমালোচনার জন্ম দেয়।

এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ না করে ইনফান্তিনো বলেন, রেফারির ভুল কিংবা শাস্তি পরিবর্তনের ঘটনা বিশ্বের বড় বড় লিগেও ঘটে। অথচ নিজেদের প্রতিযোগিতায় এসব মেনে নেওয়া দেশগুলোই বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করছে।

বিশ্বকাপ চলাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগও করেছে।

সব বিতর্কের মধ্যেও ইনফান্তিনোর দাবি, ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল বার্তা ছিল শান্তি, সম্প্রীতি ও বৈশ্বিক ঐক্য। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফুটবলের ইতিবাচক দিকগুলো দেখার সময় এসেছে এবং মাঠে লড়াই করা দলগুলোর প্রতি আরও সম্মান দেখানো উচিত।