বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি
ভূগর্ভের তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিজ্ঞানীদের নতুন উদ্যোগ
ভূগর্ভের গভীরে জমে থাকা তাপশক্তিকে ব্যবহার করে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ মরুভূমিতে প্রায় ৩ মাইল গভীর পর্যন্ত ড্রিল করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য তেল বা গ্যাস নয় বরং ভূগর্ভের তাপ আহরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে হিউস্টনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফার্ভো এনার্জি, যারা তেল-গ্যাস খাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে জিওথার্মাল (ভূতাপ) শক্তির নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, আধুনিক জিওথার্মাল প্রযুক্তি বৈশ্বিক বিদ্যুৎ চাহিদার ১৪০ গুণ পূরণ করতে সক্ষম।
তবে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়নে রয়েছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ— যেমন ব্যয়বহুল ড্রিলিং, জটিল প্রকৌশল কাঠামো, ভূমিকম্পের সম্ভাবনা এবং পানি ও জমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
ফার্ভো যে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করছে সেটির নাম Enhanced Geothermal System (EGS)। এতে দুটি কূপ খনন করে পাথরের ভেতর ফাটল তৈরি করা হয় এবং সেই ফাটলের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত করে উত্তপ্ত করা হয়। উত্তপ্ত পানি যখন উপরে উঠে আসে, তখন তা দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
ফার্ভো বর্তমানে ইউটাহতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জিওথার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ভূকম্পনের ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। ২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার পোহাং শহরে একটি ভূকম্পনের জন্য জিওথার্মাল প্রকল্পকে দায়ী করা হয়। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত নজরদারিতে এই ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ভূকম্পনের ঝুঁকি এড়াতে কানাডার ইয়েভর ও যুক্তরাষ্ট্রের কোয়েজ এনার্জির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে— কেউ ফ্র্যাকিং ছাড়াই পানি ঘোরানোর পদ্ধতি নিচ্ছে, আবার কেউ গভীরতর স্তরের পাথর গলিয়ে তাপ আহরণের চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিগুলোর টেকসইতা এখনও যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে এগুলো বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। তবে সফল হলে এটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এক বৈপ্লবিক দিক উন্মোচন করবে।
ফার্ভো এনার্জির সিইওর ভাষায়, “ভূপৃষ্ঠের নিচে থাকা তাপ দিয়েই মানবজাতির শত কোটি বছরের শক্তির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।”
খবর: সিএনএন।