বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি

উসকানিমূলক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে মেটাকে সরকারের কড়া চিঠি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫২ পিএম

উসকানিমূলক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে মেটাকে সরকারের কড়া চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মেটা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে থাকা বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে সহিংসতা উসকে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ফেসবুকের মাধ্যমে শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুকে সমর্থন এবং গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার উসকানি দিচ্ছেন। 

এর ফলে 'প্রথম আলো' ও 'দ্য ডেইলি স্টার' কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকটি বিষয়ে মেটাকে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে। সেসবের মধ্যে রয়েছে:

১. বিশেষ নজরদারি: আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যন্ত বাংলাদেশ সংক্রান্ত কনটেন্টের ওপর বিশেষ নজরদারি জারি রাখতে বলা হয়েছে।
২. কঠোর মডারেশন: বাংলা ভাষাভিত্তিক কনটেন্ট মডারেশন জোরদার করা এবং কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। 
৩. রিপোর্ট করার সুযোগ: জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) থেকে সন্ত্রাস ও সহিংসতার উসকানি দেওয়া পোস্টের বিরুদ্ধে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে রিপোর্ট করার সুযোগ চালু করেছে।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার সরাসরি পোস্ট ডিলিট করতে পারে না, তবে বিটিআরসির মাধ্যমে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে রিপোর্ট করতে পারে। হেট স্পিচ বা সহিংসতার ডাক দেওয়া জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি সোশ্যাল মিডিয়াকে সহিংসতা কিংবা ভায়োলেন্স তৈরির টুল হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি দেশ, নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন হতে জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছে।