পর্যটন
সরকারি সহযোগিতা পেলে কুয়াকাটার ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হতে পারে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র
সাগরকন্যা কুয়াকাটার পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত এক অপার সৌন্দর্যের স্থান, যা স্থানীয়দের কাছে পরিচিত “মিনি সুইজারল্যান্ড” নামে। সমুদ্রের গর্জন, সারি সারি ঝাউবন, বিস্তীর্ণ বালুচর ও লাল কাঁকড়ার বিচরণ—সব মিলিয়ে এটি যেন প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর লীলাভূমি। পর্যটকদের কাছে এটি দিন দিন আকর্ষণীয় স্পটে পরিণত হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও নান্দনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত হয়ে পূর্বদিকে গঙ্গামতি বিচ পয়েন্ট। সেখান থেকে আরও দুই থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে গেলেই চোখে পড়ে “মিনি সুইজারল্যান্ড”। এক পাশে বিশাল সমুদ্র, অন্য পাশে ঝাউবন এবং মাঝখানে লাল কাঁকড়ার চর—সব মিলিয়ে স্থানটি পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
এখানে শত শত লাল কাঁকড়া অবাধে বিচরণ করে। মানুষের উপস্থিতি বা যানবাহনের শব্দ পেলেই মুহূর্তে গর্তে লুকিয়ে পড়ে তারা। সমুদ্রের গর্জন আর কাঁকড়ার লুকোচুরি দেখতে দেখতে পর্যটকরা পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত “মিনি সুইজারল্যান্ড”-এ। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সহজেই যে কারও মন ভালো করে দেয়।

তবে পর্যটকদের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা, ওয়াশরুম সংকট এবং খাবারের স্বল্পতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী পর্যটকদের ভোগান্তি বেশি।
পটুয়াখালী থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক আসাদুজ্জামান ইমন জানান, বিকেলের পড়ন্ত আলোয় সমুদ্রের গর্জন ও প্রাকৃতিক দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। তবে পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও খাবারের ব্যবস্থা থাকলে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতো।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় সমুদ্রপাড় দিয়েই পর্যটকদের এখানে আসতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এতে ভোগান্তি বেড়ে যায় এবং তখন প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে স্পটটি। সরকারি উদ্যোগে সড়ক, ওয়াশরুম ও খাবারের হোটেল নির্মাণ করা হলে “মিনি সুইজারল্যান্ড” দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ জানান, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতসহ “মিনি সুইজারল্যান্ড”-এর মতো পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়নে সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শিগগিরই উন্নয়নকাজ শুরু হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।