ক্যাম্পাস
দীর্ঘদিন থেকে থেমে আছে কুবির বাস্কেটবল মাঠ ও স্পোর্টস গ্যালারির নির্মাণকাজ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ব্যয়বহুল বাজেটের আওতায় নির্মিতব্য বাস্কেটবল মাঠ ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের গ্যালারি নির্মাণ কাজ দীর্ঘ একবছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা থাকলেও, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকেই কার্যত অচল হয়ে পড়ে প্রকল্পটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পের নির্মাণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের মধ্যে ছিল—নতুন শিক্ষক ডর্মেটরির পাশে একটি আধুনিক বাস্কেটবল মাঠ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের চারপাশে ছয়টি গ্যালারি নির্মাণ।
সরাসরি ঘুরে দেখা গেছে, বাস্কেটবল মাঠে কেবলমাত্র জমি সমতল করে দুই পাশে দুটি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। নেই কোনো কোর্টের চিহ্ন বা বাস্কেটবল খেলার উপযুক্ত অবকাঠামো। ফলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে সেখানে শর্টপিচ ক্রিকেট খেলছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ছয়টি গ্যালারির মধ্যে মাত্র দুটি তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেও একাধিক গ্যালারির কাঁচ ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।
প্রকৌশল বিভাগ বলছে, বাস্কেটবল মাঠের ৭১ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় মাঠের ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৯ টাকা পরিশোধও করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে, যদিও পুরো প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস. এম. শহিদুল হাসান জানান, “রাজস্ব খাতের কাজ হওয়ায় জুন মাসের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, ততটুকুরই বিল দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানাও করা হয়েছে।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “কাজ শেষ না হলে বিল পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ‘ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিলের জন্য এসেছিল, আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি কাজ শেষ না করে বিল মিলবে না।” তবে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি জানতে ২০২৪ সালের ১৯ মে ‘ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর বরাবর চিঠি পাঠানো হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর জবাব আসেনি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা মুশফিক বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে ফোন কেটে দেন।
নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রীড়া প্রেমী শিক্ষার্থীরা। আইন বিভাগের ২০২২–২৩ সেশনের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট খেলোয়াড় দিলোয়ার হোসেন বলেন, “এক বছর ধরে এই কাজ ঝুলে আছে। এটি আমাদের মানসিক বিকাশ এবং ক্রীড়া চর্চার পথে বড় বাধা।”
ফুটবল খেলোয়াড় ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরাজুল ইসলাম বলেন, “খেলাধুলার জন্য পরিবেশ থাকা খুব জরুরি। কিন্তু যে মাঠ বা গ্যালারির কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো তো বাস্তবায়নই হচ্ছে না।”
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল আলম জানান, “আমরা কত টাকা বরাদ্দ লাগবে তা নির্ধারণ করছি এবং প্রকৌশল দপ্তরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরপর দরপত্র দেওয়া হবে।”
ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, “আমরা অফিসিয়ালি জানিয়ে দিয়েছি যে অসম্পূর্ণ বাস্কেটবল মাঠের কারণে খেলা শুরু করা যাচ্ছে না। কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছি।”
প্রায় ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই ক্রীড়া অবকাঠামোগুলো থমকে থাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশ কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লাগছে। কাজ অসমাপ্ত রেখে ৪০ লাখ টাকার বিল পরিশোধ, সময়মতো কাজ না হওয়া এবং দায়িত্বশীলদের পরস্পরের ওপর দোষ চাপানো — এসব বিষয়ই প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যর্থতার জ্বলন্ত প্রমাণ। শিক্ষার্থীরা এখন আশায় বুক বাঁধছে, নতুন বরাদ্দ এলে হয়তো আবার কাজ শুরু হবে।