ক্যাম্পাস
চবিতে ফের শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষে প্রক্টরসহ আহত ১৫, স্থগিত পরীক্ষা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এলাকায় ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন লন্ডনি বিল্ডিং এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়রা তিন দিক থেকে একযোগে আক্রমণ চালায়। এতে চবির প্রক্টরসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘরের দিকে পাথর ছুঁড়তেও দেখা গেছে। এসময় লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এর ফলে এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এ ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ফ্ল্যাট বাসায় প্রবেশ করতে চাইলে ওই ভবনের দারোয়ান তাকে মারধর করে। তবে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে দারোয়ান পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন স্থানীয় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ঘোষণা দেওয়া হয়। এর জেরে গত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ওই সময়ও বহু শিক্ষার্থীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠে।
রোববার সকালে পুরো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং আহতদের পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনব্যাপী সব পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এ ঘটনায় ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।