ক্যাম্পাস

জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়! প্রশাসনে দলীয়করণ ও নিয়োগে অনিয়ম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৫২ পিএম

জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়! প্রশাসনে দলীয়করণ ও নিয়োগে অনিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আলেম সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০১৩ সালে মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ফাজিল, কামিল, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের প্রায় ১,৭০০টি মাদরাসা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় উঠে আসা এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি আরও একবার বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান প্রশাসন সরাসরি জামায়াতে ইসলামির প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভিসি ও ডিন পদে জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে।

ভিসি ও ডিনের বিরুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্যের অভিযোগ-

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির নেতা ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্ঠ প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম। আর কামিল বিভাগের ডিন পদে রয়েছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন বিভাগের শিক্ষক ও পরিচিত জামায়াত নেতা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ অলি উল্যাহ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রফেসর অলি উল্যাহ নিয়ম না মেনে শতাধিক মাদরাসায় পরিদর্শন করেছেন এবং পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগে নানা রকম সুবিধা আদায় করেছেন। নিয়োগ কিংবা পাঠদান নবায়নের ক্ষেত্রে ‘গাড়িভাড়া’ বাবদ নিতে হয়েছে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। এমনকি মাদরাসা পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় মিষ্টি, ফল ও উপঢৌকন উপহার হিসেবে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-চ ৫৬-০৮২৬) সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত ব্যবহারে নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। অথচ একইসঙ্গে বিভিন্ন ভ্রমণের জন্য টিএ-ডিএ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নিয়োগপ্রক্রিয়া সরাসরি জামায়াত অফিসে!

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া এখন আর ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নেই। সূত্র বলছে, মগবাজার ও কাটাবনের জামায়াত কার্যালয়েই এখন নিয়োগের ভাইভা হয়। সেখানেই প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করে চূড়ান্ত করা হয় নিয়োগ। এই কাজ দেখভাল করেন ভিসির পিএস মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, যিনি ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল শাখার সাবেক সভাপতি।

ফাজিল ও কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডি গঠনের ক্ষেত্রেও দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জামায়াতপন্থী তালিকা যাচাই করে বাইরে থেকে দলীয় লোক বসিয়ে দিচ্ছেন সভাপতি ও বিদ্যুৎসাহী পদে। এতে অনেক যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি বাদ পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি সংবিধি সংশোধন করে জামায়াতপন্থীদের নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাবেক ট্রেজারার ড. মামুনুর রহমান খলিলির নেতৃত্বে কিছু ধারা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ও ইউজিসির প্রতিনিধিদের আপত্তির মুখেও এই পরিবর্তন পাশ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তারা জানান, প্রশাসনের দলীয় আচরণের প্রতিবাদ করায় ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ ও বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শামছুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, "আমি এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"