ক্যাম্পাস

জাকসুর নতুন ভিপি কে এই আব্দুর রশিদ জিতু?


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

জাকসুর নতুন ভিপি কে এই আব্দুর রশিদ জিতু?
আব্দুর রশিদ জিতু। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু। শিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট ২৫টির মধ্যে ২১টি পদে জয় পেলেও, ভিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে জিতু’র বিজয় তাকে নিয়ে আলাদা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কে এই জিতু?

আব্দুর রশিদ জিতু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’-এর আহ্বায়ক এবং জাবি ক্যাম্পাসে গত এক বছর ধরে বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

জিতু প্রথম আলোচনায় আসেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ের ‘গণঅভ্যুত্থান’ আন্দোলনের সময়। সে সময় তিনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে তিনি ‘ফার্স্ট ম্যান’ হিসেবে নেতৃত্ব দেন এবং ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের প্রধান মুখ ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে এসে ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামে নতুন একটি ছাত্র প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান।

জিতুর রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা আরও আগে থেকেই। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। সেখান থেকেই মূলত তিনি বিদ্রোহী স্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

জাকসুর এই বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে ম্যানুয়ালি ভোট গণনার কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটে। ফল ঘোষণা করা হয় শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিনেট ভবনে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান।

নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট ২১টি পদে জয় পেলেও, ভিপি পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরাজিত হয়। স্বতন্ত্র জোটের জিতুর এই বিজয় অনেকের কাছেই বড় চমক হিসেবে ধরা পড়েছে।

তবে এ নির্বাচন বর্জন করে ছাত্রদলসহ চারটি প্যানেল এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনকে ঘিরে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে একজন নির্বাচন কমিশনারসহ বিএনপিপন্থি চার শিক্ষক পদত্যাগ করেন।

জাকসুতে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৮৯৭ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা দীর্ঘদিন পর হওয়া একটি জাকসু নির্বাচনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে স্পষ্ট করে।