ক্যাম্পাস
‘সাংবাদিকদের টাকা-পয়সা ও মোবাইল দেয় শিক্ষকরা’- বিতর্কিত মন্তব্য কুবি উপাচার্যের
সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সাংবাদিকদের ‘জঘন্যভাবে ব্যবহার’ করছেন এবং তাদের টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন কিনে দিচ্ছেন। তবে তিনি কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এমন মন্তব্য করায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর)। সেদিন এনটিভির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফরহাদ হুসাইন হিমু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিষয়ে উপাচার্যের মন্তব্য জানতে চান। এ সময় উপাচার্য সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেন, “আপনি এখানকার ছাত্র। আমি আপনার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে পারব। আপনাকে কে পাঠিয়েছে সেটা জানা আমার খুব দরকার। কিছু শিক্ষক সাংবাদিকদের ব্যবহার করছে, টাকা-পয়সা দেয়, মোবাইল-টোবাইলও কিনে দেয়—এটা আমি শুনেছি।”
সাংবাদিক যখন প্রমাণ জানতে চান, তখন উপাচার্য বলেন, “হ্যাঁ, প্রমাণ না পেয়ে আমি কথা বলছি নাকি? আমি অহরহ শুনি শিক্ষকরা সাংবাদিকদের টাকা-পয়সা দেয়, মোবাইল ফোনও দিয়েছে।”
পরে আরও জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেন, “আমি একা না, এটা প্রচলিত বিষয়। প্রায়ই শুনি সাংবাদিকরা শিক্ষকের ঘরে যায়, বসে, আর শিক্ষকরা তাদের উপহার দেয়। এসব কথা আমি নিয়মিতই শুনে আসছি।”
তবে শোনা কথার ভিত্তিতে এমন অভিযোগ করা যায় কি না—এমন প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, “অনেক কথাই তো ফরমালভাবে বলা যায় না।”
ঘটনার পর এনটিভির প্রতিবেদক ফরহাদ হুসাইন হিমু বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আমি উপাচার্যের কাছে মন্তব্য জানতে চেয়েছিলাম। তিনি যেভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি কখনো এমন আচরণ প্রত্যাশা করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “উনি শোনা কথার ভিত্তিতে সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী এবং আমাদের জন্য অপমানজনক।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডিইউজেএস) সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ বলেন, “একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তার এমন মন্তব্য অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। বাংলাদেশের ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে যে ভূমিকা রেখেছে—উনি সেই ইতিহাস সম্পর্কে অবগত নন।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও তিনি শিক্ষার্থীদের ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন, যা প্রমাণ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডারদের বাস্তব অবস্থা বোঝেন না।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রিফাত বলেন, “উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। তিনি শোনা কথার ভিত্তিতে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন না। এটি শুধু সাংবাদিকদের নয়, শিক্ষকদেরও অপমান।”
তিনি আরও বলেন, “গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা প্রকাশে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ভূমিকা অস্বীকারযোগ্য নয়। উপাচার্যের এই মন্তব্য সেই অবদানকেই অস্বীকার করছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগে উপাচার্যের বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।