ক্যাম্পাস

শাকসু নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

শাকসু নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকেরা। নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্র ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং সেই অভিযোগের তির বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের দিকেই করা হচ্ছে। এখন আমরা যদি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধেই আবার অভিযোগ উঠবে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকেরা শাকসু নির্বাচনে কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না।”

তিনি আরও বলেন, শাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তারা শুরু থেকেই সহযোগিতা করে আসছেন। তবে নির্বাচন কমিশন গঠনের পর একাধিকবার পরিবর্তন, ভিসির একক সিদ্ধান্তে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল দখলের ঘটনা ঘটে। হলে ওঠার জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হলেও সে বিষয়ে শিক্ষকদের অবহিত করা হয়নি। ভিসি ও ট্রেজারার সিন্ডিকেট বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে একক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৮ বছরে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকেরা একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং কখনো নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। তবে হঠাৎ করে ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের এক সংবাদ সম্মেলনের ভাষা ও বক্তব্য শিক্ষকসুলভ ছিল না বলেও দাবি করেন বক্তারা।

এ সময় শিক্ষকদের পাশাপাশি ছাত্রদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনের তারিখ আদায় করা সঠিক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, সহাবস্থান ও শান্তি রক্ষার স্বার্থেই তারা দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলামসহ অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমেদ, অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।