ক্যাম্পাস
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ৫৩ শতাংশই থাকবে সবুজ অঞ্চল
সংসদে বিল পাসের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। চলতি ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নওগাঁবাসীর বহুল কাঙ্ক্ষিত এই বিশ্ববিদ্যালয়। ইতোমধ্যে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা নির্বাচন ও জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নির্বাচিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, রাস্তা ও চত্বরসহ বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে নওগাঁ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত ও একাডেমিক মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক ধারণা তুলে ধরা হয়। সভায় উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার সার্বিক ধারণা উপস্থাপন করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শেলটেক কনসালটেন্ট লিমিটেড।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী ৫০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা সামনে রেখে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার সমন্বিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পের ধারণাপত্র প্রস্তুতের কাজ করছে শেলটেক কনসালটেন্ট লিমিটেড। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক খন্দকার শাহরিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই জাহান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনসহ অনেকে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রাথমিক ধারণাপত্র তুলে ধরেন শেলটেক কনসালটেন্ট লিমিটেডের স্থপতি মুস্তাসিম মাহমুদ খান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকার ৯৭ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। ওই জমিতে আগামী ৫০ বছরের উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনায় ছয়তলা বিশিষ্ট পাঁচটি একাডেমিক ভবন, পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন, ছেলে ও মেয়েদের জন্য তিনটি করে মোট ছয়টি ছয়তলা ছাত্রাবাস, একটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারসহ মোট ৪৫টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্বাচিত জায়গার ৫৩ শতাংশই সবুজ অঞ্চল, মাঠ কিংবা উন্মুক্ত স্থান হিসেবে রাখা হবে। যেহেতু জায়গাটি কিছুটা নিম্নাঞ্চল, তাই বন্যা বা জলাবদ্ধতা এড়াতে এবং আশপাশের মাঠের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রশস্ত খাল রাখার পরিকল্পনাও মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব প্রকল্প সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত।
তিনি বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমন্বিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ধারণাপত্রের ওপরই প্রকল্পগুলোর অনুমোদন নির্ভর করছে। দেশের সুনামধন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শেলটেক কনসালটেন্ট লিমিটেড ইতোমধ্যে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। মহাপরিকল্পনায় কী কী সংযোজন বা বিয়োজন করা যেতে পারে, সে বিষয়ে মতামত নেওয়ার জন্যই এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, “একুশ শতকের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার চাহিদা পূরণে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে যুগোপযোগীভাবে গড়ে তোলা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে, তা বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিরা উপাচার্যের পাশে থাকবেন।”