রাজধানী

এবার শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সের ভল্ট ভেঙে ৭ অস্ত্র চুরি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৯ পিএম

এবার শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সের ভল্ট ভেঙে ৭ অস্ত্র চুরি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুড়ে যাওয়া কার্গো কমপ্লেক্সের স্ট্রংরুম থেকে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। ভল্ট ভেঙে অস্ত্র হারানোর ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে গত ২৮ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) জামাল হোসেন জিডিতে উল্লেখ করেন, ২৪ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কাস্টমস, এনএসআই, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বিমান কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়। পরে সবার উপস্থিতিতে সেগুলো ভল্টে রেখে শিকল ও তালা মেরে সিলগালা করা হয়।

জামাল হোসেন বলেন, তিনি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে ভল্টের তালা পরীক্ষা করেন। কিন্তু পরদিন সকালে বিমানের নিরাপত্তা শাখার ডিউটি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, ভল্টের দরজায় কোনো তালা নেই। বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, তালাটি খুলে ফেলা হয়েছে এবং ভল্ট খোলা অবস্থায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভল্টে মোট ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে ১৪টি উদ্ধার করা গেলেও সাতটি অস্ত্র নিখোঁজ। নিখোঁজ অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম-ফোর কার্বাইন অ্যাসল্ট রাইফেল ও ব্রাজিলের তৈরি টরাস পিস্তল। তবে এসব অস্ত্র কোন বাহিনীর, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাসলিমা আক্তার বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। অস্ত্র সত্যিই চুরি হয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।”

এদিকে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “অস্ত্র আদৌ চুরি হয়েছে কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদি সত্যিই চুরি হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এখনো ঠিক কতটি অস্ত্র নিখোঁজ- তা প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে না।”

গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি পণ্য রাখার কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে প্রায় ২৭ ঘণ্টা। ওই ঘটনার পরই দেশের অন্যতম কেপিআইভুক্ত এই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এবার ভল্ট ভেঙে অস্ত্র চুরির অভিযোগে সেই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।