রাজধানী

চুরি ধরে ফেলায় মা–মেয়েকে হত্যা: ডিএমপি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৮ পিএম

চুরি ধরে ফেলায় মা–মেয়েকে হত্যা: ডিএমপি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার দায়ে গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপি জানায়, চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ায় আয়েশা পরিকল্পিতভাবে লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।

গ্রেপ্তার আয়েশা নরসিংদী সদর থানার সলিমগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলামের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর পূর্বহাটিতে স্বামী রাব্বী সিকদারকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ওসমান মাসুম জানান, আয়েশাকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উন্মোচনে কাজ করছিল। প্রথমে আয়েশার বর্তমান ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। পরে তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি ঝালকাঠির নলছিটিতে অবস্থান করছেন। সেখানে অভিযান চালিয়ে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার স্বামী রাব্বীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।

গত সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ ও তার নবম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ে নাফিসা লাওয়ালকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার পর নিহত লায়লার স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি বাসার সিসিটিভি ফুটেজের বিবরণ উল্লেখ করেন। ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে আয়েশা কাজে যোগ দিতে বাসায় প্রবেশ করেন। এরপর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মেয়ের স্কুল ইউনিফর্ম পরে বাসা থেকে পালিয়ে যান। বের হওয়ার সময় তিনি বাসার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যান।

মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম পেশায় স্কুল শিক্ষক। তিনি জানান, ঘটনার মাত্র চার দিন আগে আয়েশাকে খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়েছিল। সোমবার সকাল ৭টার দিকে তিনি উত্তরায় কর্মস্থলে যান এবং স্ত্রীকে ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাননি। পরে বেলা ১১টার দিকে বাসায় ফিরে এসে মেয়ে নাফিসাকে প্রধান ফটকের কাছে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী আশিকের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, লায়লা আফরোজকে রান্নাঘরের পাশের করিডোরে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।